সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সেলাস্ট্রল নামক একটি প্রাকৃতিক যৌগ শারীরিক পরিশ্রমের মূল কোষীয় প্রভাবগুলো তৈরি করতে সক্ষম, যা পেশি এবং মাইটোকন্ড্রিয়ার ক্ষয় রোধ করে। এই পর্যবেক্ষণটি কেবল চিরযৌবন লাভের কোনো সাধারণ প্রতিশ্রুতি থেকে আসেনি, বরং ব্যায়াম এবং এই নির্দিষ্ট উপাদানটি শরীরের যেসব আণবিক পথকে সক্রিয় করে, তাদের সরাসরি তুলনার মাধ্যমে পাওয়া গেছে।
বয়সের সাথে সাথে পেশি তার শক্তি ও ভর হারায় এবং কোষের শক্তির উৎস মাইটোকন্ড্রিয়া তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এবং বিপাকীয় ব্যাধির ঝুঁকি বেড়ে যায়। এখন প্রশ্ন উঠেছে: বিশেষ করে যখন শরীরের নাড়াচাড়া বা চলাফেরা সীমিত হয়ে যায়, তখন কি ব্যায়াম ছাড়াই শরীরকে সুরক্ষিত রাখার এই সুফলগুলো পাওয়া সম্ভব?
এই গবেষণার প্রেক্ষাপট মূলত শারীরিক কার্যকলাপের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অনুকরণ করতে পারে এমন পদার্থের অনুসন্ধানের সাথে যুক্ত। বিজ্ঞানীরা উদ্ভিদ থেকে সেলাস্ট্রল আলাদা করেছেন এবং বার্ধক্যের বিভিন্ন মডেলে এটি পরীক্ষা করেছেন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই যৌগটি নিয়মিত ব্যায়ামের মতো একই সংকেত ব্যবস্থা বা সিগন্যালিং ক্যাসকেড সক্রিয় করে, যার ফলে মাইটোকন্ড্রিয়ার বায়োজেনেসিস উন্নত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন জমার পরিমাণ কমে যায়।
বিশ্লেষণধর্মী তুলনা দেখায় যে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় সেলাস্ট্রল পেশি কোষে শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে এবং প্রদাহের লক্ষণগুলো কমিয়েছে, তবে এই সমস্ত ফলাফল কেবল কোষ এবং প্রাণীর মডেলে পাওয়া গেছে। মানুষের ওপর এ নিয়ে কোনো ক্লিনিকাল তথ্য এখনও নেই এবং এই গবেষণার অর্থায়নে কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থের সংঘাতও দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে প্রমাণের সীমাবদ্ধতা বেশ স্পষ্ট—মানুষের শরীরের জন্য এর সহনশীলতা এবং সঠিক মাত্রা সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।
এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি তালার মতো কল্পনা করা যেতে পারে যা আসল চাবি অর্থাৎ শারীরিক পরিশ্রম অথবা সেলাস্ট্রল নামক চাবির হুবহু নকল দিয়ে খোলা সম্ভব। উভয় বিকল্পই শরীরের ভেতরে একই কোষীয় প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে একটির জন্য নিয়মিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় এবং অন্যটির ক্ষেত্রে কেবল একটি নির্দিষ্ট উপাদানের সেবন করলেই চলে।
এই আবিষ্কারটি এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেয় যে, পেশি এবং মাইটোকন্ড্রিয়ার বার্ধক্য কোনো অনিবার্য ক্ষয় নয়, বরং কতগুলো নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়ার সমষ্টি যেখানে বাহ্যিক উদ্দীপনাকে আংশিকভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। এখন মূল প্রশ্ন হলো, ল্যাবরেটরির এই প্রভাব কতটা নির্ভুলভাবে এবং নিরাপদে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।



