গ্রিনল্যান্ড শার্ক চার শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকে, যেখানে এদের কোষে অধিকাংশ মেরুদণ্ডী প্রাণীর তুলনায় অনেক কম ক্ষয়ক্ষতি সঞ্চিত হতে দেখা যায়। এই বিষয়টি নিজেই এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করে: বার্ধক্য যদি মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়ার একটি অনিবার্য ফল হয়, তবে দশকের পর দশক ধরে টিস্যুর কোনো দৃশ্যমান ক্ষয় ছাড়া এই স্থিতিশীলতাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব?
'এজিং সেল' (Aging Cell) সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় 'সোমনিওসাস মাইক্রোসেফালাস' (Somniosus microcephalus)-এর কোষীয় প্রাণরসায়ন বিশ্লেষণ করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ এবং জিনোমিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকরা একে 'অমরত্বের চাবিকাঠি' হিসেবে দাবি না করে বরং এমন কিছু আণবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা সম্ভবত এই হাঙরকে বার্ধক্যজনিত রোগগুলো এড়াতে সাহায্য করে।
ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে বার্ধক্য ত্বরান্বিত করার মডেলগুলোর বদলে এখানে এমন প্রাণীদের ওপর গবেষণা করা হয়েছে যাদের স্বাভাবিক জীবনকালই কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি প্রশ্নের ধরনকেই বদলে দিয়েছে: বার্ধক্যের গতি কমানোর উপায় খোঁজার পরিবর্তে গবেষকরা এখন বোঝার চেষ্টা করছেন কেন এই প্রজাতির ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি ভিন্নভাবে কাজ করে। গবেষণালব্ধ তথ্য ডিএনএ মেরামতের উচ্চ সক্ষমতা এবং মেমব্রেন লিপিডের বিশেষত্বের ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘায়ুর সাথে এর সরাসরি কারণ-প্রভাব সম্পর্কের বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে।
মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তনের হারের পার্থক্যটি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। মানুষসহ অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে বয়সের সাথে ডিএনএ-র ক্ষতির পরিমাণ রৈখিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও গ্রিনল্যান্ড শার্কের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার বিস্ময়করভাবে কম। ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা আগুনের কোনো কয়লার কথা কল্পনা করুন যা যেমন নিভে যায় না, তেমনি দাউদাউ করে জ্বলে উঠে সব ছাইও করে দেয় না: শক্তি খরচ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ধ্বংসের প্রক্রিয়াটি ঘটছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। হাঙরের টিস্যুর প্রাণরসায়নিক বিশ্লেষণে মূলত এমন একটি চিত্রই ফুটে উঠেছে।
তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, গবেষণাটি অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক নমুনার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে এবং এতে মানুষের জীবন্ত কোষের ওপর কোনো কার্যকারিতা পরীক্ষা চালানো হয়নি। ফলে এই প্রক্রিয়াগুলো মানব চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহারের যেকোনো সম্ভাবনা এখনো অনুমান নির্ভর। গবেষণার অর্থায়নে স্বার্থের কোনো সরাসরি সংঘাত না থাকলেও দীর্ঘজীবী তরুণাস্থিযুক্ত মাছ নিয়ে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যের এখনো বেশ অভাব রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড শার্কের কোষ পর্যবেক্ষণে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, বার্ধক্য কোনো নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা একক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি কোষের ক্ষতি এবং তা পুনরুদ্ধারের হারের একটি সমষ্টি যা এমনকি একই ধরনের মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হতে পারে। এই পর্যবেক্ষণটি সরাসরি কোনো নতুন চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দেয় না ঠিকই, তবে জৈবিকভাবে অনিবার্য হিসেবে আমরা যা জানি, তার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে।



