প্রবীণ ব্যক্তিদের রক্তে অনেক প্রোটিনের মাত্রা পাঁচ বছর ধরে প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, যদিও গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বয়স ইতোমধ্যে সত্তরের কোঠা পেরিয়ে গিয়েছে।
আইসল্যান্ডের AGES-Reykjavik প্রকল্পের এই পর্যবেক্ষণটি রক্তে প্রবাহিত প্রোটিন দ্রুত জৈবিক বার্ধক্যের প্রতিফলন ঘটায়—এই ধারণাটিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
এক হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে, যেখানে পাঁচ বছরের ব্যবধানে দুবার তাদের প্লাজমার কয়েকশ প্রোটিনের ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়েছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় বয়স বাড়লেও অধিকাংশ সূচক আগের সীমার মধ্যেই রয়ে গেছে।
এই স্থিতিশীলতা ল্যাবরেটরির তথ্যের ঠিক বিপরীত, যেখানে পরীক্ষামূলক হস্তক্ষেপের মাত্র কয়েক মাস বা সপ্তাহের মধ্যেই অনেক প্রোটিনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং প্রবীণদের বাস্তব জীবনের মধ্যে ব্যবধানটি এখানে বেশ প্রকট হয়ে উঠেছে।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, বিশেষ করে প্রদাহ এবং মেটাবলিজমের সাথে যুক্ত প্রোটিনগুলোর মধ্যে এই স্থিতিশীলতা বেশি দেখা যায়। এর অর্থ হতে পারে যে, বার্ধক্যের ক্লিনিকাল লক্ষণগুলো স্পষ্ট হওয়ার পরেও শরীর একটি নির্দিষ্ট ভারসাম্য বা হোমিওস্ট্যাসিস বজায় রাখে।
একটি নদীর কথা কল্পনা করুন যার গতিপথ একই থাকে, যদিও এর পানি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে: আলাদা আলাদা অণু আসে এবং যায়, কিন্তু প্রবাহের সামগ্রিক রূপটি প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। AGES-Reykjavik-এর অংশগ্রহণকারীদের রক্তে প্রোটিনের চিত্রটি ঠিক এমনই।
গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, বার্ধক্যের নির্ভরযোগ্য নির্দেশক বা মার্কারগুলো সম্ভবত একবার পরিমাপ করে পাওয়া যাবে না, বরং সেগুলো আরও সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যে খুঁজতে হবে—উদাহরণস্বরূপ, বাহ্যিক প্রভাবে প্রোটিনের প্রতিক্রিয়ার গতি বা একে অপরের সাথে তাদের মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে।



