তারুণ্যের চিপ: চার দিনে যেভাবে কয়েক দশকের টিস্যু ক্ষয়কে অনুকরণ করা যায়

লেখক: Svitlana Velhush

ইউসি বার্কলি ল্যাবে স্টেম সেল থেকে তৈরি চর্বি ও লিভারের টিস্যু মাত্র চার দিনে এমন আণবিক বৈশিষ্ট্য লাভ করে যা মানুষের শরীরে তৈরি হতে ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর সময় লাগে। এই 'অর্গান-অন-আ-চিপ' ব্যবস্থাটি টিস্যুগুলোর মধ্য দিয়ে বয়স্ক দাতাদের রক্তরস প্রবাহিত করার মাধ্যমে বার্ধক্যের সামগ্রিক প্রভাব ফুটিয়ে তোলে, যা কেবল বিচ্ছিন্ন কোষের নিছক অনুকরণ নয়।

২০২৬ সালের মার্চ মাসে 'নেচার বায়োমেডিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং'-এ প্রকাশিত গবেষণাটি দেখায় যে, এই ধরনের মাইক্রোফিজিওলজিক্যাল মডেল বার্ধক্য প্রতিরোধক ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা দ্রুততর করতে সক্ষম। প্রাণী বা মানুষের ওপর বছরের পর বছর পর্যবেক্ষণ করার বদলে বিজ্ঞানীরা এখন দ্রুত উত্তর পাচ্ছেন যে বার্ধক্যজনিত জিনের অভিব্যক্তি পরিবর্তিত হচ্ছে কি না এবং কোষের ক্ষতি হওয়া কমছে কি না।

তবে এই মডেলের নির্ভুলতার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি শুধুমাত্র দুই ধরনের টিস্যুর পারস্পরিক ক্রিয়া প্রদর্শন করে এবং এমন রক্তরসের ওপর নির্ভর করে যার উপাদানগুলো বয়সের সাথে সাথে এমনিতেই পরিবর্তিত হয়। শরীরের সামগ্রিক বার্ধক্যের সাথে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, মাইক্রোবায়োম, স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ এবং যান্ত্রিক চাপ জড়িত থাকে, যা এই চিপে অনুপস্থিত। তাই মডেলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া মানেই জীবন্ত মানুষের শরীরে তার কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়া নয়।

এক্ষেত্রে মূল কৌশল হলো 'পুরানো' রক্তরসের সংবহন। কল্পনা করুন, আপনি তরুণ কোষগুলোকে এমন এক পরিবেশে রাখছেন যেখানে কয়েক দশক ধরে জমা হওয়া সিগন্যালিং অণু যেমন প্রদাহজনক সাইটোকাইন, জারিত লিপিড এবং পরিবর্তিত প্রোটিন আগে থেকেই বিদ্যমান। এর ফলে কোষগুলো এমনভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে যেন সেগুলো নিজেরাই বছরের পর বছর পার করে এসেছে। এটি কোনো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ত্বরান্বিত বার্ধক্য নয়, বরং বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক উপাদানের ত্বরান্বিত প্রভাব।

গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই পদ্ধতিটি মূলত প্রাথমিক বাছাই বা স্ক্রিনিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে অকার্যকর উপাদানগুলো দ্রুত বাদ দিয়ে সম্ভাবনাময়গুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়। গবেষণাপত্রটিতে সরাসরি ক্লিনিক্যাল তথ্যের সাথে কোনো তুলনা করা হয়নি এবং লেখকরা অকপটে স্বীকার করেছেন যে এই ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে আরও বাড়তি পরীক্ষার প্রয়োজন।

এই ধরনের ব্যবস্থা গবেষণার পরিধি বদলে দিচ্ছে: যে বিষয়টি আগে পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েক দশক সময় নিত, এখন তা মাত্র এক সপ্তাহেই পরীক্ষা করা সম্ভব। প্রশ্নটি এমন নয় যে চিপ মানুষের বিকল্প হবে কি না, বরং এটি শরীরের টিস্যুগুলোর বার্ধক্যের গতি নিয়ন্ত্রণকারী সংকেতগুলো কতটা নির্ভুলভাবে ধরতে পারছে, সেটাই আসল বিষয়।

34 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।