মৃত্যু হলো একত্বের এক প্রসারিত অবস্থায় ফিরে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া মাত্র।
❓ প্রশ্ন:
বর্তমান সময়ের মতো আমাদের বার্ধক্য এবং মৃত্যুর এই ধরাবাঁধা নিয়মটি যদি শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়, তবে সে বিষয়ে আপনি কী ভাবছেন? আমার অনুভূতি বলছে যে, একজন মানুষ যেকোনো বয়সে তার শরীরের 'বার্ধক্য বা পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া' থামিয়ে দিতে পারে এবং মৃত্যু কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নিজস্ব সিদ্ধান্ত হতে পারে।
❗️ lee-র উত্তর:
আমার কাছে এটি বিবর্তনীয় বিকাশের একটি বিষয়। আজ যা সবার জন্য প্রযোজ্য, কাল তা সবার জন্য ভিন্ন হবে। এটি কোনো একজনের একক কৃতিত্ব নয়, বরং সভ্যতার অগ্রগতির এক স্বাভাবিক পথ।
বার্ধক্য হলো আমাদের (শক্তির দিক থেকে) কত দ্রুত বিস্তার ঘটছে, সেই গতির সাথে তাল মেলাতে না পারা। আর আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ইচ্ছার সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের প্রসারিত করি। অর্থাৎ, নিজেকে নিজের প্রকৃত সত্তা হতে বাধা দেওয়াই বার্ধক্যের প্রভাব তৈরি করে।
প্রাণীরা ভিন্ন কারণে এটি করে—তারা প্রকৃতির চক্র অনুসরণ করে এবং তা পরিবর্তনের চেষ্টা করে না, যা তাদের উদ্দেশ্য পূরণের পর দেহ ত্যাগের এক ধরনের নিশ্চয়তা দেয়। তারা নিজেদের সম্পর্কে এমন কোনো নতুন ধারণা তৈরি করে না যা আকাঙ্ক্ষা হিসেবে বাস্তবায়িত করা যায়। কিন্তু মানুষ (ব্যক্তিত্বের অহং) প্রতিনিয়ত নতুন ধারণা তৈরি করে এবং অসীম সময় ধরে নিজেকে পরিবর্তন করতে সক্ষম।
সেই অনুযায়ী, মানুষের জন্য একত্বের এক প্রসারিত অবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে মৃত্যু ভিন্নতর হতে পারে—যা হলো শরীরের ভেতরে থেকেই তরঙ্গের এক নতুন কম্পাঙ্কে আরোহণ করা। বিভিন্ন ঐতিহ্যে এটিই 'আলোক দেহে রূপান্তর' হিসেবে পরিচিত।
এই উভয় প্রক্রিয়াই মানবজাতির জন্য বিবর্তনের পরবর্তী পদক্ষেপ।




