ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা এবং অ্যারিজোনা একটি সাময়িক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে, যার আওতায় আগামী তিন বছরে কলোরাডো নদী থেকে ৩ মিলিয়ন একর-ফুট পানি উত্তোলন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এই তিন অঙ্গরাজ্য। লেক মিড এবং লেক পাওয়েল জলাধারের পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণে নিচে নেমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলোরাডো নদী প্রায় ৪ কোটি মানুষের পানির চাহিদা মেটায় এবং সাতটি অঙ্গরাজ্যের কৃষিজমিতে সেচ সরবরাহ করে। পানির ব্যবহার না কমালে ২০২৫ সালের মধ্যেই জলাধারগুলোর পানি সংকটজনক স্তরের নিচে নেমে যেতে পারে, যা শহর ও খামারগুলোর পানি সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বছরের পর বছর ধরে নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়াই এই সংকটের প্রধান কারণ। গত ২০ বছরে ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় বার্ষিক গড় পানির প্রবাহ প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কমানোর হার নির্ধারণে এই অঙ্গরাজ্যগুলো দীর্ঘকাল একমত হতে পারেনি, কারণ ক্যালিফোর্নিয়া সবচেয়ে বেশি পানি গ্রহণ করে, অন্যদিকে অ্যারিজোনা ও নেভাদা আনুপাতিক হারের ভিত্তিতে কাটছাঁট করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া ১.৬ মিলিয়ন একর-ফুট, অ্যারিজোনা ১.২ মিলিয়ন এবং নেভাদা ০.২ মিলিয়ন একর-ফুট পানি উত্তোলন কমাবে। এই তিনটি অঙ্গরাজ্য এবং মার্কিন ব্যুরো অফ রিক্লেমেশন-এর একটি যৌথ বিবৃতিতে এই পরিসংখ্যানগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে। এই কাটছাঁট হবে স্বেচ্ছামূলক, তবে কৃষক ও পৌরসভাগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এর জন্য আর্থিক উদ্দীপনা দেওয়া হবে।
একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অ্যারিজোনার কিছু কৃষক অর্থের বিনিময়ে তাদের জমি অনাবাদি রাখতে রাজি হয়েছেন, যার ফলে লেক মিডে পানি সঞ্চয় করা সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপটি দেখায় যে কীভাবে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধাগুলো বাধ্যতামূলক কোটার বিকল্প হতে পারে এবং রাজনৈতিক বিরোধ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
এই চুক্তিটি সাময়িক এবং এটি মেক্সিকো ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে পানি ব্যবহারের অধিকার সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধান করে না। খরা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যে একটি নতুন এবং আরও কঠোর পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে, যা অববাহিকার সাতটি অঙ্গরাজ্যকেই প্রভাবিত করবে।



