ইউরোস্ট্যাটের এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি বার্ষিক ১.৮ শতাংশে নেমে এলেও, ১০-১১ জুন ২০২৬-এ নির্ধারিত ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মূল সুদের হার কমাতে পারছে না।
২০১৯-২০২০ সালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তা থাকলে ইসিবি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতেই পছন্দ করে। সে সময় মুদ্রাস্ফীতির একই ধরনের মন্থর গতি সত্ত্বেও জ্বালানি পণ্যের দাম পুনরায় বাড়ার আশঙ্কায় তাৎক্ষণিক কোনো নীতি শিথিল করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিও অনেকটা একই রকম: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ লোহিত সাগরে যেকোনো বিঘ্নের প্রতি সংবেদনশীল রয়ে গেছে, পাশাপাশি ইউরোপীয় শিল্পখাতও এখনো সংকটপূর্ব উৎপাদন পর্যায়ে ফিরে আসতে পারেনি।
মূল অংশীজনদের প্রকৃত স্বার্থ একটি বিন্দুতে মিলিত হয়েছে: ইসিবি ২০২২ সালের সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না, যখন সুদের হার কমানোর আগাম সংকেত ইউরোকে দুর্বল করে দিয়েছিল এবং নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করেছিল। ২০২৭ সালে ইউরোজোনের বেশ কয়েকটি দেশে নির্বাচনী চক্রের কথা মাথায় রেখে জার্মানির বুন্দেসব্যাংক এবং ফ্রান্সের ব্যাংক ডি ফ্রান্স সতর্ক থাকার ওপর জোর দিচ্ছে। বর্তমান সুদের হার বজায় রাখার ফলে ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো একটি পরোক্ষ সুবিধা পাচ্ছে, কারণ তাদের ঋণের বিপরীতে মুনাফার মার্জিন এখনও উঁচুতে রয়েছে।
নীতিমালার আকস্মিক পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা, বাহ্যিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীলতা এবং বাজারের আস্থা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা—এই প্রধান বিষয়গুলো এখন একবিন্দুতে এসে মিলেছে। এই বৈঠকের সম্ভাব্য ফলাফল হলো একটি নিরপেক্ষ বিবৃতির মাধ্যমে সুদের হার ৩.৭৫ শতাংশেই স্থির রাখা। এই সিদ্ধান্তটি ইসিবি-কে শরৎকাল পর্যন্ত সময় দেবে, যখন ফসলের উৎপাদন এবং শীতকালীন গ্যাস মজুদ সংক্রান্ত তথ্যগুলো আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
সবচেয়ে জোরালো দুটি বিপরীত যুক্তি—মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত ১.৫ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়া এবং জার্মানিতে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক অবনতি—ইসিবি-কে জুলাইয়ের মধ্যেই তাদের সুর বদলাতে বাধ্য করতে পারে। তবে এই উভয় পরিস্থিতির জন্যই মে-জুন মাসের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে, যা কেবল এই বৈঠকের পরেই হাতে পাওয়া সম্ভব হবে।
আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে পূর্বাভাসটি সঠিক কি না তা যাচাইয়ের প্রধান সূচক হবে ১০ বছর মেয়াদী জার্মান বন্ডের আয়ের গতিধারা এবং ইতালীয় বন্ডের সাথে এর ব্যবধান (স্প্রেড)। যদি এই ব্যবধান ১২০ বেসিস পয়েন্টের নিচে থাকে এবং বন্ডের আয় ২.৬ শতাংশ অতিক্রম না করে, তবে এটি নিশ্চিত করবে যে বাজার কোনো আতঙ্ক ছাড়াই ইসিবির নিরপেক্ষ সংকেত গ্রহণ করেছে।
বৈঠকের পরবর্তী দুই সপ্তাহে গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যদের মন্তব্যের দিকে নজর রাখুন: শরৎকালে সুদের হার কমানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত তাদের কাছ থেকেই পাওয়া যাবে।



