ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং এমএপিএফআরই (MAPFRE)-এর সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের জিডিপি ২.০ থেকে ২.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এই পরিসংখ্যানের আড়ালে একটি গভীর সংকট লুকিয়ে আছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি বিশ্লেষকদের ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে এই অঞ্চলের আঞ্চলিক বাণিজ্য কাঠামো পাল্টে দিতে পারে।
গত কয়েক দশক ধরে চলে আসা কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাগুলো এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। রপ্তানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যের অভাব, কাঁচামালের দামের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এবং দুর্বল অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক সংহতি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে সীমিত করে দিচ্ছে। এছাড়া ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধাও ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে, আর প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতাগুলো দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে ওয়াশিংটনের আসন্ন বাণিজ্য নীতি সংশোধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যেসব দেশের মোট জিডিপির ১৫ শতাংশেরও বেশি রপ্তানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকা ইতিমধ্যে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে দক্ষিণ আমেরিকা চীনের চাহিদার ওপর ভরসা রাখছে।
আঞ্চলিক সরকার এবং বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত স্বার্থ এখানে মিলে যায়: সবাই চায় খরচ না বাড়িয়েই মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে। এদিকে এই দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার সুযোগে এশীয় সরবরাহকারীরা নেপথ্যে বড় সুবিধাভোগী হয়ে উঠছে, যারা একই শর্তে লাতিন আমেরিকার পণ্যের বিকল্প হিসেবে নিজেদের অবস্থান করে নিতে প্রস্তুত।
সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপট অনুযায়ী, যদি মূল পণ্যগুলোর ওপর নতুন শুল্ক ১০-১৫ শতাংশের বেশি না হয়, তবে প্রবৃদ্ধির হার ২.১ থেকে ২.২ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। এর প্রক্রিয়াটি সহজ: রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্য সরবরাহের একটি অংশ অভ্যন্তরীণ বাজার এবং অন্যান্য অঞ্চলে সরিয়ে নেবে, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আর্থিক নীতি শিথিল করার মাধ্যমে বাহ্যিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে।
মূলত দুটি প্রধান ঝুঁকি এই চিত্রটি বদলে দিতে পারে। প্রথমত, ব্যাপক পরিসরের পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ শতাংশের উপরে চলে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, একই সময়ে চীনা অর্থনীতির মন্দা, যা কাঁচামালের দাম কমিয়ে দেবে। এই উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধির হার ১.৫ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির নতুন দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হবে এই পরিস্থিতির প্রধান নির্দেশক। ঠিক এই দুই ঘটনার মাধ্যমেই পরবর্তী ছয় সপ্তাহের মধ্যে বোঝা যাবে যে ওয়াশিংটন শুল্ক ব্যবস্থা কঠোর করার বিষয়ে কতটা গুরুতর।
ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত শুল্ক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে, এই অঞ্চলের বিনিয়োগকারী এবং সরকারগুলোর উচিত এখনই রপ্তানি গন্তব্য বহুমুখী করা এবং এশীয় ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে চুক্তি ত্বরান্বিত করা।



