বিশ্বজুড়ে সুদের হার কমানোর প্রবণতা থাকলেও ব্যাংক অফ জাপান বিপরীত পথেই হাঁটছে, তবে অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত ধীর গতিতে এগোচ্ছে তারা।
এই পথ বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে কাঠামোগত কিছু কারণ: জিডিপির ২৫০ শতাংশেরও বেশি বিশাল রাষ্ট্রীয় ঋণ, বয়স্ক জনসংখ্যা এবং রপ্তানি নির্ভরতা। মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও এসব সীমাবদ্ধতার কারণে নীতিমালায় কঠোর পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে না। সাম্প্রতিক তথ্যে মজুরি বৃদ্ধির স্থিতিশীল চিত্র পাওয়া গেলেও তা এখনো বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারেনি।
বর্তমানে ইয়েনের গতিবিধি এবং ২০২৫ সালের বসন্তকালীন মজুরি বিষয়ক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রপ্তানি সচল রাখতে সরকার ও বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মুদ্রার মান কম রাখার পক্ষে হলেও ব্যাংক অফ জাপান মুদ্রাবাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ এড়াতে চায়। রপ্তানিকারক ও কর্তৃপক্ষের স্বার্থের এই পরোক্ষ সমন্বয় সুদের হার আরও বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৬-২০১৯ সালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা ইয়েনের মান বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং শিল্প খাতে মন্দা তৈরি করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি আগের চেয়ে স্থিতিশীল হলেও জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশীলতার পার্থক্য মুদ্রার ওপর চাপ বজায় রাখছে।
২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মূল সুদের হার ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ০.৭৫ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি মূলত ৩ শতাংশের বেশি মজুরি বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি রাখার ওপর নির্ভর করবে। বিশ্ব অর্থনীতির আকস্মিক মন্দা কিংবা ইয়েনের অপ্রত্যাশিত শক্তিশালী হওয়া—এই দুটি ঝুঁকি সুদের হার স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দিতে পারে।
আগামী ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে প্রধান লক্ষণীয় বিষয় হবে বসন্তকালীন মজুরি আলোচনার ফলাফল এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ব্যাংক অফ জাপানের পরবর্তী মন্তব্য। এই তথ্যগুলো থেকেই বোঝা যাবে যে কঠোর আর্থিক নীতি কার্যকরের ধারা বজায় থাকবে কি না।
বিনিয়োগকারীদের জাপানি বন্ডের আয়ের (yield) মাঝারি বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং মুদ্রানীতি পরিবর্তনের মূল সংকেত হিসেবে ইয়েনের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।




