এফওএমসি-র (FOMC) দাপ্তরিক ক্যালেন্ডার এবং বিএমও ইকোনমিক্স-এর তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালের ১৭ জুন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ৪.২৫–৪.৫০ শতাংশেই বজায় রাখবে, যদিও আর্থিক নীতি সহজ করার জন্য বাজারে জোরালো দাবি রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির সাময়িক ওঠানামা নয়, বরং কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকারের একটি টেকসই সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হচ্ছে।
কাঠামোগত শক্তিগুলো এখানে একটি কঠোর সীমারেখা টেনে দিয়েছে: ফেডারেল রিজার্ভের ম্যান্ডেট অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখা উভয়ের মধ্যেই ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন, আর ২০১৮–২০১৯ সালের অভিজ্ঞতা দেখায় যে সময়ের আগে সুদের হার কমালে পুনরায় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিএমও-র প্রতিবেদন অনুসারে, মূল মুদ্রাস্ফীতি টানা চতুর্থ বছরের মতো লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের উপরে রয়েছে, আর শ্রমবাজারও বেকারত্বের হার হঠাৎ বৃদ্ধি না পেয়েই ধীরে ধীরে শীতল হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে। এই দুটি কারণ এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যেখানে সুদের হার কমানোর জন্য মুদ্রাস্ফীতি স্থায়ীভাবে কমার জোরালো প্রমাণ থাকা জরুরি।
বর্তমানে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত আসা তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে: যার মধ্যে মে মাসের ভোক্তা মূল্য সূচক এবং কর্মসংস্থান প্রতিবেদন অন্যতম। ফেডারেল রিজার্ভের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই মুদ্রাস্ফীতির গতিপথ নিয়ে "অধিকতর আত্মবিশ্বাস" অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন, এবং এই প্রতিশ্রুতি তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রটিকে সীমিত করে দিয়েছে। একটি অদৃশ্য প্রভাবক হিসেবে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক চক্র কাজ করছে: এফওএমসি-র কিছু সদস্য কংগ্রেস এবং প্রশাসনের সম্ভাব্য রদবদল বিবেচনা করছেন, যা তাদের মধ্যে সতর্ক থাকার প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্বার্থের সমীকরণগুলো একটি বিরল ঐক্য প্রদর্শন করছে: ব্যাংক এবং উচ্চ ঋণগ্রস্ত কর্পোরেশনগুলো উচ্চ সুদের হার বজায় রাখার ফলে লাভবান হচ্ছে কারণ এটি ঋণের মুনাফার মার্জিন বজায় রাখে, যেখানে রপ্তানিকারক এবং আবাসন খাত সুদের হার কমানোর পক্ষে। তবে আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলার ক্ষমতার কারণে প্রথমোক্ত পক্ষের দাবিই বেশি গুরুত্ব পায়—আর ফেডারেল রিজার্ভ এই অগ্রাধিকারটি উপেক্ষা করতে পারে না।
সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হলো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা। প্রক্রিয়াটি সহজ: প্রাপ্ত তথ্যে সম্ভবত মুদ্রাস্ফীতি ২.৪–২.৬ শতাংশ এবং বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশের কাছাকাছি দেখা যাবে। এই পরিসংখ্যানগুলো নীতি সহজ করার জন্য পর্যাপ্ত কারণ দেয় না, এবং কমিটি জুলাই ও সেপ্টেম্বরের বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করাকেই শ্রেয় মনে করবে। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দুটি জোরালো পাল্টা যুক্তি হতে পারে—মুদ্রাস্ফীতি অপ্রত্যাশিতভাবে ২.৩ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়া অথবা বেকারত্বের হার ৪.৫ শতাংশের উপরে উঠে যাওয়া—তবে উভয় ক্ষেত্রেই আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিশ্চিত প্রমাণের প্রয়োজন হবে।
জুলাইয়ের শেষ নাগাদ এই পূর্বাভাস যাচাই করার একমাত্র সূচক হলো ২৮ জুন প্রকাশিতব্য মে মাসের পিসিই (PCE) সূচক এবং পরবর্তী ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড কার্ভের প্রতিক্রিয়া। যদি ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ড ৪.১ শতাংশের নিচে না নামে, তবে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকবে।
বিনিয়োগকারীদের উচিত দ্রুত নীতি শিথিল হওয়ার আশা না করে বরং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হারের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই তাদের পোর্টফোলিও গুছিয়ে নেওয়া।




