২০২৬ সালে ওপেক প্লাস (OPEC+) থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরে দাঁড়ানো কেবল সদস্য সংখ্যাই কমায়নি, বরং একটি মৌলিক বৈপরীত্যকে সামনে এনেছে: যে সংস্থাটি উৎপাদক দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গঠিত হয়েছিল, এখন সেই অতিরিক্ত সার্বভৌমত্বের কারণেই এটি সংকটে ভুগছে।
এখানে কাঠামোগত প্রভাবগুলোই মূল ভূমিকা পালন করছে। সৌদি আরব সর্বনিম্ন উৎপাদন খরচসহ বৃহত্তম উৎপাদক হিসেবে টিকে থাকলেও তাদের বাজেটের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৮০ ডলারের বেশি হওয়া প্রয়োজন। রাশিয়ার ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা রপ্তানির একটি বড় অংশ ধরে রেখেছে এবং সামরিক ব্যয় মেটাতে তাদের একটি স্থিতিশীল আয়ের প্রয়োজন। জোট ত্যাগ করা সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যে দৈনিক উৎপাদন ৩ লাখ ব্যারেল বাড়িয়েছে, যা সরাসরি তেলের বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই অর্থনৈতিক নির্ভরতাগুলো মন্ত্রীদের বাগাড়ম্বরের ওপর ভিত্তি করে চলে না।
বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়টিকে আরও জরুরি করে তুলেছে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তেলের স্বেচ্ছামূলক উৎপাদন হ্রাসের বর্তমান সময়সীমা শেষ হতে চলেছে, আর সৌদি আরব ও রাশিয়ার বাজেট চক্রের জন্য এখন নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। ঐক্যের বিষয়ে জনসমক্ষে দেওয়া বিবৃতিগুলো এই সত্যকে আড়াল করতে পারছে না যে, প্রতিটি সদস্যই এশিয়ার ক্রেতাদের সাথে আলাদাভাবে সমান্তরাল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতির নেপথ্যে থাকা একটি সূক্ষ্ম বিষয় হলো, তৃতীয় পক্ষগুলো—বিশেষ করে চীন ও ভারত—সরাসরি পৃথক উৎপাদকদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করার মাধ্যমে ওপেক প্লাসের অভ্যন্তরীণ মতভেদকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাচ্ছে। এটি বাজারের ওপর এই তেল জোটের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে কমিয়ে দিচ্ছে।
৭ জুনের বৈঠকের সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল হতে পারে উৎপাদন হ্রাসের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে একটি আপস চুক্তি, যেখানে রাশিয়া ও ইরাকের জন্য কিছুটা ছাড় থাকতে পারে। সৌদি আরব ঐক্যের আবহ বজায় রাখতে কিছুটা নমনীয় হবে, কারণ জোটটি পুরোপুরি ভেঙে পড়লে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে বাজারের ওপর ওপেক প্লাসের প্রকৃত প্রভাব দুর্বল হওয়া অব্যাহত থাকবে।
এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দুটি প্রধান যুক্তি হতে পারে—হয় রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কঠোরতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়া অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের হঠাৎ করে জোটে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত। এই উভয় সম্ভাবনার জন্যই এমন ঘটনার প্রয়োজন যা বর্তমান ধারার সম্পূর্ণ বাইরে। বৈঠকের পরবর্তী ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই পূর্বাভাস কতটা সঠিক তা বোঝার প্রধান সূচক হবে ব্রেন্ট (Brent) এবং দুবাই ক্রুড (Dubai crude)-এর মূল্যের পার্থক্যের গতিপ্রকৃতি।
চীনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানির পরিমাণের দিকে নজর রাখুন: যে কোনো চুক্তির স্থায়িত্ব যাচাই করার জন্য এটিই হবে প্রথম বাস্তব পরীক্ষা।



