২০২৬ সালের ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি অনুসমর্থনের সময়সীমাকে একটি প্রতীকী তারিখ বলে মনে হতে পারে, তবে বাস্তবে এটি নেতাদের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে বিদ্যমান গভীর ফাটলকেই উন্মোচিত করে। আরটিএইচকে (RTHK) এবং ২০২৬ সালের মে মাসের নিউ ইয়র্ক টাইমসের আপডেটসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি কোটা এবং ডিজিটাল শুল্ক নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে, তবে বিলম্বের আসল কারণ উভয় পক্ষের নির্বাচনী চক্রের মধ্যে নিহিত।
২০১৬ সালে ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ (TTIP) ব্যর্থ হওয়ার মতো কাঠামোগত অভিজ্ঞতাগুলো এটাই প্রমাণ করে যে, এ ধরনের চুক্তিগুলো সব সময়ই জাতীয় সংসদগুলোর বাধার মুখে পড়েছে। ইইউ-এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর জন্য শুধুমাত্র ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদনই যথেষ্ট নয়, বরং সদস্য দেশগুলোর জাতীয় আইনসভার সম্মতিরও প্রয়োজন হয়, যেখানে জার্মানি ও ফ্রান্সের কৃষি লবি ঐতিহ্যগতভাবেই মার্কিন কৃষকদের জন্য কোনো ছাড় দেওয়ার পথ বন্ধ করে রাখে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় ভিত্তিতে বিভক্ত কংগ্রেস মেধা স্বত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে নমনীয় হতে প্রস্তুত নয়, যার ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ এই চুক্তির অনুসমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বর্তমান পরিস্থিতি এই চিত্রটিকে আরও জোরালো করছে: নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে অভিবাসন এবং জ্বালানি খাতের অভ্যন্তরীণ ছাড়ের সাথে যুক্ত করছে, যেখানে ইউরোপীয় কমিশনকে পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর চাপের কথা মাথায় রাখতে হচ্ছে, যারা তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারানোর ভয়ে রয়েছে। এখানে কিছু প্রচ্ছন্ন স্বার্থও কাজ করছে—আটলান্টিকের উভয় তীরের বড় কর্পোরেশনগুলো এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে, কারণ এটি তাদের কোনো নতুন নিয়ন্ত্রক বাধা ছাড়াই বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে।
১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ঐতিহাসিক নজিরও একই ধরনের গতিশীলতা প্রদর্শন করে: প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বিতর্কের কারণে অনুসমর্থন প্রক্রিয়াটি কয়েক বছর পিছিয়ে গিয়েছিল এবং ইইউ-এর আরও জটিল বহুপাক্ষিক কাঠামোর কারণে বর্তমান পরিস্থিতি আরও বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দৃশ্যত, প্রভাবশালী শক্তিগুলো এই সময়সীমা অন্তত ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ক্ষমতার মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্রকৃত চালিকাশক্তি প্রেসিডেন্ট বা কমিশন প্রধানরা নন, বরং কংগ্রেসের বাণিজ্য কমিটি এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কৃষি উপদলগুলো। নির্বাচনের আগে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এমন কোনো আকস্মিক পরিবর্তন এড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের স্বার্থ অনেকাংশেই মিলে যায়। এক্ষেত্রে তথ্যের অসমতাও বড় ভূমিকা পালন করছে: মার্কিন পক্ষের কাছে চীনের সরবরাহ ব্যবস্থার প্রভাব নিয়ে সাম্প্রতিক তথ্য থাকলেও ইইউ সম্ভবত এখনও সেটিকে অবমূল্যায়ন করছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি একটি নির্দিষ্ট পরিণতির দিকেই যাচ্ছে: ২০২৬ সালের ৪ জুলাইয়ের মধ্যে এই চুক্তি অনুসমর্থিত হবে না, কারণ সংসদীয় পদ্ধতি এবং লবিস্টদের বাধার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অন্তত ১২ থেকে ১৮ মাস সময় প্রয়োজন। প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ—ওয়াশিংটন এবং ব্রাসেলসের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর প্রাথমিক অনুমোদন ছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ভোট আয়োজন করা অসম্ভব। জি-৭ (G7) সম্মেলনে হঠাৎ কোনো অগ্রগতি বা তৃতীয় কোনো দেশের চাপের মতো শক্তিশালী যুক্তিগুলো বিবেচনার যোগ্য হলেও সেগুলো প্রাতিষ্ঠানিক সময়সীমার বাধ্যবাধকতাকে বাতিল করতে পারে না।
আগামী ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যেই এই পূর্বাভাসের নির্ভুলতা যাচাই করার জন্য একটি মূল সূচক পাওয়া যাবে—আর তা হলো চুক্তির খসড়া সংশোধনী নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির ভোটাভুটির ফলাফল। যদি সংশোধনীগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয় বা উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল করা হয়, তবে এটি নিশ্চিত হবে যে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে। তাই ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সরবরাহ এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত পরিকল্পনাগুলো সময়মতো সমন্বয় করার জন্য এই সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখুন।




