কানাডিয়ান কোম্পানি ওপেন স্টার টেকনোলজিস (Open Star Technologies) তাদের ডাইপোল ফিউশন ডিভাইসের প্রোটোটাইপে একটি সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটের সফল লেভিটেশনের কথা ঘোষণা করেছে। প্রায় ১০০ কেজি ওজনের ম্যাগনেটটিকে একটি ভ্যাকুয়াম চেম্বারের ভেতরে কোনো যান্ত্রিক সাহায্য ছাড়াই শূন্যে ভাসিয়ে স্থিতিশীল করা হয়েছে, যা ভিডিও ফুটেজ এবং সেন্সর ডেটার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এটি একটি গবেষণাগারভিত্তিক প্রদর্শনী যা পরীক্ষা থেকে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এমআইটি-র এলডিএক্স-এর মতো একই ধরনের যন্ত্রে লেভিটেশনের পূর্ববর্তী প্রচেষ্টায় চৌম্বক ক্ষেত্র বজায় রাখতে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হতো। এক্ষেত্রে গবেষক দল উচ্চ-তাপমাত্রার সুপারকন্ডাক্টর এবং সক্রিয় স্থিতিশীলকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যা পূর্বসূরিদের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ ৩০% কমিয়ে এনেছে।
তবে এই অর্জন এবং ব্যবহারিক থার্মোনিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর তৈরির মধ্যে এখনও অনেক অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ১০ কিলো-ইলেকট্রন ভোল্টের (10 keV) বেশি তাপমাত্রায় প্লাজমাকে স্থিতিশীল রাখা নিশ্চিত করা, দেয়াল থেকে তাপ অপসারণ করা এবং কিউ-ফ্যাক্টর (Q) একের বেশি অর্জন করা এখন সময়ের দাবি। শিল্পক্ষেত্রে একে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য উপাদানের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং ক্রায়োজেনিক যন্ত্রপাতির উচ্চমূল্যের মতো সমস্যাগুলোর সমাধান প্রয়োজন।
এর কার্যপ্রণালী পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের মতো একটি ম্যাগনেটিক ডাইপোল তৈরির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। প্লাজমা এমন একটি ট্র্যাপে আটকে থাকে যেখানে বলরেখাগুলো বদ্ধ লুপ তৈরি করে, যার ফলে চেম্বারের দেয়ালে কণা হারানোর হার সর্বনিম্ন হয়। লেভিটেশন যান্ত্রিক খুঁটি বা সাপোর্টের প্রয়োজনীয়তা দূর করে, যা অন্যথায় চৌম্বক ক্ষেত্রের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারত এবং অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করত।
এই ফলাফল ডাইপোল ফিউশন ধারণাকে এগিয়ে নিলেও এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের বাস্তবসম্মত সময়সীমাকে খুব একটা পরিবর্তন করে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত হলে নিট শক্তি উৎপাদনের প্রদর্শনী পর্যন্ত পৌঁছাতে কমপক্ষে আরও দশ বছর সময় লাগবে। এই খাতের জন্য এটি ম্যাগনেটিক কনফাইনমেন্টের একটি বিকল্প পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণ করে ঠিকই, তবে গবেষণাগারের সাফল্য এবং গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে তা ঘুচিয়ে দেয় না।
এই পদ্ধতি অর্থনৈতিক মানদণ্ডে টোকামাকের সাথে পাল্লা দিতে পারবে কি না, তা পরবর্তী পরীক্ষানিরীক্ষাই বলে দেবে।



