ভিয়েতনামের বিমান সংস্থা ভিয়েতজেট (Vietjet) এবং ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস একযোগে শ্রীলঙ্কায় প্রথম সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা পর্যটকদের পাশাপাশি এই অঞ্চলের অর্থনীতিবিদদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এখন পর্যন্ত হ্যানয় বা হো চি মিন সিটি থেকে কলম্বো যেতে ট্রানজিটসহ অন্তত দশ ঘণ্টা সময় লাগত, তবে এখন যাতায়াতের সময় প্রায় অর্ধেক কমে আসবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল ক্রমবর্ধমান বাজার ধরার আকাঙ্ক্ষাই নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটন প্রবাহে এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিতও রয়েছে।
২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর শ্রীলঙ্কা সক্রিয়ভাবে পর্যটন থেকে আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে, অন্যদিকে ভিয়েতনাম গত কয়েক বছর ধরে বহির্গামী পর্যটনে টেকসই প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে আসছে। সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে উভয় দেশই সিঙ্গাপুর ও দুবাই হয়ে প্রথাগত রুটের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে। স্থানীয় অপারেটরদের অনুমান অনুযায়ী, প্রথম বছরেই উভয় দিকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার পর্যন্ত যাত্রী আশা করা যাচ্ছে, যা শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের হোটেল খাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে চাঙ্গা করবে।
মজার বিষয় হলো, ভিয়েতজেট সাশ্রয়ী ভাড়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, আর ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইটগুলোকে আরামদায়ক প্রিমিয়াম সেবা হিসেবে তুলে ধরছে। দর্শকদের এই বিভাজন ভিয়েতনামী পর্যটকদের বিভিন্ন স্তরের প্রতিফলন ঘটায়: সস্তা সমুদ্রসৈকত সন্ধানী তরুণ পেশাদার থেকে শুরু করে স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য খরচ করতে রাজি পরিবার এবং ব্যবসায়িক পর্যটক পর্যন্ত। কলম্বোর হোটেলগুলোতে ইতিমধ্যে রুশভাষী গাইড এবং ভিয়েতনামী মেনুর চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে—যা প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত বাজার সাড়া দেওয়ার একটি লক্ষণ।
শ্রীলঙ্কার জন্য এই ফ্লাইটগুলো কেবল বৈদেশিক মুদ্রার আগমনই নয়, বরং পর্যটন প্রবাহকে বহুমুখীকরণের একটি সুযোগও বটে। আগে এই দ্বীপরাষ্ট্রটি মূলত ইউরোপীয় এবং ভারতীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল; এখন সেইসব এশীয় পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সুযোগ তৈরি হয়েছে যারা আগে এই গন্তব্যটিকে অনেক দূরের মনে করতেন। অন্যদিকে, ভিয়েতনামী পর্যটকরা এমন কিছু কম পরিচিত সমুদ্রসৈকত এবং সাংস্কৃতিক নিদর্শনের সন্ধান পাবেন যেখানে এখনো পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় নেই।
তবে এই আশাবাদী পূর্বাভাসের আড়ালে কিছুটা সতর্কতাও কাজ করছে। বিমান সংস্থাগুলো এখনো ফ্লাইটের সঠিক সংখ্যা এবং চূড়ান্ত ভাড়া প্রকাশ করেনি, আর বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে সাফল্য নির্ভর করবে জ্বালানি তেলের দামের স্থিতিশীলতা এবং শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। যদি প্রথম কয়েক মাস চাহিদাপূর্ণ হয়, তবে বছরের শেষ নাগাদ ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভিয়েতনামের অন্যান্য শহর থেকে অতিরিক্ত রুট চালুর আশা করা যেতে পারে।
পরিশেষে, এই ফ্লাইটগুলো চালু হওয়া কেবল একটি বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নয়, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার এক নতুন ধাপ। পর্যটকদের জন্য এর অর্থ হলো কম ট্রানজিট এবং এমন একটি দেশকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ, যা কিছুদিন আগেও ভিয়েতনামী পর্যটন মানচিত্রের এক প্রান্তে পড়ে ছিল।



