‘চমৎকার মেজাজে থাকা’ মূলত আপনার দৃষ্টি কোথায় নিবদ্ধ করবেন সেই পছন্দের ওপর নির্ভর করে।
❓ প্রশ্ন:
লি, আপনি যখন উচ্চ কম্পন বা হাই ভাইব্রেশন নিয়ে কথা বলেন, তখন মনে হয় আমাদের সবসময় খুব ভালো মেজাজে থাকতে হবে। অথচ মনোবিজ্ঞানীরা বলেন যে বিভিন্ন ধরনের আবেগ অনুভব করা প্রয়োজন, কারণ সেগুলো আমাদের জীবনের দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। এই বিষয়ে আপনার মতামত কী? ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, নানা ধরণের আবেগ অনুভব করার মানেই হলো আমরা বেঁচে আছি। আমি কি ঠিক বুঝছি যে, আপনি অপ্রীতিকর আবেগ বর্জন করার কথা বলছেন না, বরং সেগুলোকে নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করতে বলছেন যে আমি বর্তমানে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছি কি না?
❗️ লি-এর উত্তর:
আসলে মনোবিজ্ঞানও কখনো বলে না যে ‘নেতিবাচকতায় ডুবে থাকুন’, বরং এটি বলে ‘আবেগ থেকে পালিয়ে যাবেন না’। একইভাবে আমরাও এখানে উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে থাকার বিষয়ে আলোচনা করছি না, বরং ‘আবেগের সংকেত’ কেন ভেতরে সক্রিয় রয়েছে তার নির্দেশক হিসেবে দেখছি। এই সংকেতগুলোকে গ্রহণ না করলে আপনি নিজেকে কখনোই চিনতে পারবেন না।
এরপরই আসে আবেগ নয়, বরং মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু বা ফোকাস বেছে নেওয়ার যৌক্তিকতা। এক্ষেত্রে আবেগ আপনার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুর নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, ‘চমৎকার মেজাজে থাকা’ হলো আপনি কী দেখছেন সেই নির্বাচন করা, নির্দেশককে উপেক্ষা করা নয়।
একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক।
সকালে উঠে আপনি ইতিবাচক খবরগুলো এড়িয়ে গিয়ে কেবল নেতিবাচক খবরগুলো পড়তে পারেন। আপনার মন তখন ভাববে যে ‘আমি আসল সত্য জানি’, কারণ আপনার ধারণা বিভিন্ন ধরণের সহিংসতার খুঁটিনাটি জেনে আপনি ‘আরও জ্ঞানী’ হয়ে উঠেছেন।
কিন্তু সহিংসতার তথ্য বেছে নেওয়ার ফলে আপনি অন্যান্য তথ্যের প্রবাহ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যান—মানুষের অগ্রগতি বা সাফল্য সম্পর্কে আপনি কিছুই জানতে পারেন না। দিনকে দিন এভাবেই চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ‘আমি সহিংসতার সব খবরাখবর জানি’ এর মানে দাঁড়ায় যে, ‘আমি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য শত শত বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানি না’।
দৈনন্দিন জীবনেও একই কথা খাটে—আপনি যা নিয়ে কথা বলেন, তা-ই আপনাকে গ্রাস করে। এভাবেই দিন পার হতে থাকে।
মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু নির্ধারণ করা কেবল তথ্যের বিষয় নয়, এটি আপনার মানসিক সুস্বাস্থ্যও বটে। এখানেই আমরা মনোবিজ্ঞানীদের প্রসঙ্গে ফিরে আসি—যারা ‘দৃষ্টিভঙ্গির সচেতন নির্বাচন’ বজায় রাখেন, তারা মানসিকভাবে সবসময় সুস্থ থাকেন। কোনো ‘কষ্টে থাকা’ ব্যক্তিকে পারিপার্শ্বিক জীবন সম্পর্কে তার ভাবনা জিজ্ঞাসা করলেই এর প্রমাণ পাবেন। আপনি লক্ষ্য করবেন যে সব ‘অস্থির’ মানুষ এমন সব বিষয় বেছে নেন যা ইতিবাচকতা থেকে অনেক দূরে। কারণ তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেসবের মধ্যেই ডুবে থাকেন।
সুতরাং, বাইরের জগৎ সম্পর্কে আপনার ভাবনা যাই হোক না কেন, মনোযোগ কোথায় রাখবেন তার ওপর আপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আবারও বলছি—আবেগ এখানে নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে, তাই এগুলো থেকে না পালিয়ে বরং সচেতন হওয়া প্রয়োজন।




