ইউরোপীয় পদার্থবিজ্ঞানীরা ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বৃত্তাকার এক্সিলারেটর বা ত্বরক তৈরির পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন, যা বর্তমান লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে শক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। 'ফিউচার সার্কুলার কোলাইডার' (FCC) প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কেবল নতুন কণার সন্ধান নয়, বরং আগামী কয়েক দশকের জন্য উপযোগী একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হলো এফসিসি-ইই (FCC-ee) নামক একটি ইলেকট্রন-পজিট্রন কোলাইডার, যার মাধ্যমে হিগস বোসন কণা নিয়ে অভূতপূর্ব নির্ভুল গবেষণা এবং বিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের কার্যকারিতা যাচাই করা সম্ভব হবে। চীনের সিইপিসি (CEPC) প্রকল্পের তুলনায় ইউরোপের এই উদ্যোগটি সার্নের বিদ্যমান ইকোসিস্টেম এবং এলএইচসি-র দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবে, তবে এর জন্য ২০টি সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশাল বাজেটের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।
এই মেগা প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হলো ১৫ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি ব্যয়ের এই পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন ইউরোপ জ্বালানি সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। এই উদ্যোগের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে রাজনীতিবিদদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে সার্ন তার বৈজ্ঞানিক নিরপেক্ষতা কতটা বজায় রাখতে পারে তার ওপর।
এখানে এলএইচসি-র উদাহরণটি বেশ প্রাসঙ্গিক: সে সময় ৪.৭৫ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ বিনিয়োগের সুফল হিসেবে কেবল হিগস কণা আবিষ্কৃত হয়নি, বরং এমআরআই থেকে শুরু করে ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিরও ব্যাপক বিকাশ ঘটেছিল। এফসিসি অনুরূপ ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় কর্মসূচিগুলো দ্রুত এগিয়ে আসায় ইউরোপের জন্য এই আধিপত্য ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।
২০২৮ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ২০৪০ সালের পর এর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে। এটি মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার সুযোগ তৈরি করবে ঠিকই, তবে এর জন্য ১৯৫০-এর দশকে সার্ন প্রতিষ্ঠার সময়কার মতো দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন হবে।




