২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে একগুচ্ছ বৈঠকে মিলিত হন, যেখানে তিনি বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সম্পর্কের অবনতির সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই যোগাযোগগুলো গড়ে উঠেছে, যার শুল্ক নীতি ওটাওযাকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছিল।
গত কয়েক সপ্তাহে কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের 'সেটা' (CETA) চুক্তি সম্প্রসারণে একমত হয়েছে, যার ফলে ইউরোপে কানাডীয় জ্বালানি ও কৃষিপণ্য রপ্তানির কোটা বৃদ্ধি পাবে। একই সময়ে, ওটাওয়া ওয়াশিংটনের অবস্থানের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে তাদের সাথে নতুন বাণিজ্য সুবিধার বিষয়ে আলোচনা স্থগিত করেছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা লক্ষ্য করেছেন যে কানাডা এখন ইইউ-এর যৌথ প্রতিরক্ষা উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী, যা আগে অসম্ভব বলে মনে করা হতো।
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের ফলে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা-ই মূলত এই কাঠামোগত পরিবর্তনের মূল কারণ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে কানাডীয় ধাতু ও গাড়ির ওপর আরোপিত শুল্ক দেশটির অর্থনীতির মূল খাতগুলোতে বড় ধরনের আঘাত হানে।
ব্যাংক অফ কানাডা এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর হিসেবে কার্নি তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত ইউরোপীয় বাজারের দিকে মনোযোগ ঘুরিয়েছেন, যেখানে ইতিমধ্যে সহযোগিতার স্থিতিশীল ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
বর্তমানে পক্ষগুলোর অবস্থান এমন: কানাডা তার রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ইউরোপের 'গ্রিন ট্রানজিশন' বা সবুজ রূপান্তর তহবিলে প্রবেশাধিকার চাইছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অস্থির রুটগুলো এড়িয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সম্পদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগ্রহী, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকান অংশীদারিত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছে। কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি, তবে ওটাওয়ার বর্তমান পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানের এই ঘনিষ্ঠতা ২০১০-এর দশকের প্রচেষ্টার চেয়ে ভিন্ন, কারণ এটি ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রতিক্রিয়া এবং ইউরোপীয় আর্থিক মহলে কার্নির ব্যক্তিগত প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে 'সেটা' (CETA) চুক্তির হালনাগাদকৃত প্রটোকল স্বাক্ষর এবং জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা সম্মেলনে কানাডার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ হবে এই সম্পর্কের মূল নির্দেশক।
ফলে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম কানাডা সচেতনভাবে মার্কিন অনিশ্চয়তার বিপরীতে বিমা হিসেবে ইউরোপীয় পথ বেছে নিচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত কতটা টেকসই হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামী বছরগুলোতে উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক রূপরেখা কেমন হবে।



