২০২৬ সালের ১২ মে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি সতর্ক করে বলেছেন যে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যা দেশটিকে কার্যত বিভক্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আলোচনা চলাকালীন মার্কিন কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেন যে, রিপাবলিক অফ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মূল নেতৃত্ব এবং রিপাবলিক অফ শ্রপস্কার প্রতিনিধিদের মধ্যকার বর্তমান বিরোধ স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দ্রুত সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চলমান উত্তেজনার সরাসরি ফলাফল হিসেবে এই বৈঠকটি আয়োজিত হয়, যেখানে পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা এবং যৌথ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সার্বীয় পক্ষের অংশগ্রহণে অনীহা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই পদক্ষেপগুলো অতীতে ঘটে যাওয়া সংকটগুলোর অনুরূপ হলেও, ২০২৬ সালের সুনির্দিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ ও নথিপত্র ব্যবহারের কারণে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রার।
যুক্তরাষ্ট্র ডেটন চুক্তির বর্তমান কাঠামো বজায় রাখা এবং উচ্চ প্রতিনিধির (High Representative) ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করছে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীন সার্বভৌমত্বের নীতিকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে দাবি করেছে যে, বাইরের চাপের কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ববর্তী বছরগুলোর আলোচনার চেয়ে এবারের বৈঠকটি ২০২৬ সালের মে মাসের সুনির্দিষ্ট সংসদীয় অচলাবস্থার কারণে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। এটি প্রমাণ করে যে, বিষয়টি কেবল পুরনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সংকটের একটি গুণগত নতুন মোড়।
আগামী ছয় থেকে আট সপ্তাহ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার পার্লামেন্টের গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে অংশ নেওয়া কমিয়ে দিতে রিপাবলিক অফ শ্রপস্কার সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর ওপর নিবিড় দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
বৈঠকের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশটির প্রধান রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে রাষ্ট্রের কাঠামো অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েই যাবে।




