ইইউ-র প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বের লড়াই শুরু: নতুন পদক্ষেপে কি আমেরিকা ও চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে?

লেখক: Tatyana Hurynovich

ইইউ-র প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বের লড়াই শুরু: নতুন পদক্ষেপে কি আমেরিকা ও চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে?-1

ব্রাসেলস — ইউরোপীয় কমিশন অঞ্চলের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব জোরদার করার জন্য একটি বড় মাপের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং মার্কিন আইটি জায়ান্ট ও চীনা নির্মাতাদের ওপর বর্তমান নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা।

ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট হেনা ভিরক্কুনেন জোর দিয়ে বলেছেন যে, বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনীতির সাথে প্রযুক্তির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। উদ্ভাবনে যারা নেতৃত্ব দেবে তারাই বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, তাই ইউরোপের জন্য আবারও শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে ফিরে আসা অত্যন্ত জরুরি।

ইইউ-র নতুন উদ্যোগের মূল দিকগুলো

নতুন এই পদক্ষেপগুলো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ইউরোপীয় সরবরাহকারীদের সহায়তার ওপর আলোকপাত করে:

  • ক্লাউড প্রযুক্তি: বর্তমানে ইউরোপীয় বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশই অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো মার্কিন কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে। নতুন বিলে সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের চারটি স্তর প্রবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরটি প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চুক্তিতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায়।
  • মাইক্রোচিপ ও সেমিকন্ডাক্টর: প্রথম 'চিপস অ্যাক্ট' ভর্তুকির মাধ্যমে কারখানাগুলোকে ইউরোপে ফিরিয়ে আনতে পুরোপুরি সফল না হওয়ায় ব্রাসেলস তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সস্তা চীনা চিপের ওপর নির্ভরতা কমাতে অটোমোবাইলের মতো শিল্প খাতগুলোকে তাদের সরবরাহের উৎস বহুমুখী করতে বাধ্য করা হবে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ওপেন সোর্স: এআই খাতে বর্তমানে ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং ডিপসিকের মতো মার্কিন ও চীনা কোম্পানিগুলোর দাপট চলছে। বড় বড় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইউরোপীয় ডেভেলপারদের (যেমন মিস্ট্রাল এআই) অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইইউ। এছাড়াও ইউরোপীয় বাজারের খণ্ডবিখণ্ড অবস্থা দূর করতে ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি প্রচারের কৌশল গ্রহণ করা হবে।

কাঠামোগত সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক আইনই যথেষ্ট নয় এবং ইইউ বেশ কিছু বড় অর্থনৈতিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে:

  • ক্ষমতার ঘাটতি: দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য এবং জমির সংকটের কারণে ডাটা সেন্টার নির্মাণের গতিতে ইউরোপ অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
  • অবকাঠামোগত ফাঁদ: স্বল্প মেয়াদে ইইউ এনভিডিয়ার মতো উন্নত মার্কিন চিপগুলো পুরোপুরি বর্জন করতে পারবে না, যা কোনো একক সরবরাহকারীর ইকোসিস্টেমে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
  • স্টার্টআপের দেশত্যাগ: একক ও বড় বাজার এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালের অভাবের কারণে সম্ভাবনাময় ইউরোপীয় প্রকল্পগুলো প্রায়ই বিদেশে চলে যায়। এই সমস্যা সমাধানে 'EU Inc.' উদ্যোগ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পাল্টা ব্যবস্থার ঝুঁকি

ওয়াশিংটনের কঠোর বাণিজ্য নীতি এবং বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব খাটানোর প্রবণতার মুখে প্রযুক্তিগত স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মীদের ভিসা, উবার ও অ্যামাজনের মতো মার্কিন পেমেন্ট ও সার্ভিস সিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াটা ব্রাসেলসের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা ছিল।

তবুও ইউরোপীয় কমিশন আশা করছে যে, থর্নবেরি চুক্তি আমেরিকার সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে সাহায্য করবে। চীনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেকটা সরাসরি বাণিজ্য যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। তবে ইউরোপীয় রাজনীতিবিদরা আত্মবিশ্বাসী যে, কোনো পরাশক্তিই ইইউ-র সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে চাইবে না, কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং লাভজনক বাজার। এছাড়া ইউরোপ ডাচ কোম্পানি এএসএমএল-এর মাধ্যমে চিপ তৈরির যন্ত্রপাতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

হেনা ভিরক্কুনেনের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই পদক্ষেপগুলোর দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে এই অঞ্চলের ৮০ শতাংশ প্রযুক্তি বাইরে থেকে আসে এবং রাতারাতি এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা অসম্ভব হলেও নির্ভরশীলতা কমানোর পথ তৈরি হয়ে গেছে।

8 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ЕС запускает масштабную технологическую инициативу, чтобы снизить зависимость от США и Китая

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।