নরওয়েজীয় স্টার্টআপ ‘ফ্লোশান’ (Flocean) সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার এক অভিনব পদ্ধতি প্রস্তাব করেছে: এক্ষেত্রে প্ল্যান্টগুলো স্থলের পরিবর্তে সমুদ্রের তলদেশে ৪০০ থেকে ৬০০ মিটার গভীরতায় স্থাপন করা হবে। পানির স্বাভাবিক চাপকে কাজে লাগিয়ে এই সিস্টেমটি প্রচলিত স্থলভিত্তিক শোধনপ্রক্রিয়ার তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনতে সক্ষম।
সুপেয় পানির অভাব রয়েছে এমন অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের পানি শোধন অনেক আগে থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, তবে প্রথাগত পদ্ধতির বেশ কিছু বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর জ্বালানি খরচ হয়, শব্দের দূষণ ঘটে এবং উপকূলীয় এলাকায় জটিল অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজন পড়ে। ঠিক এ কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও ছোট এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী সমাধানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
ফ্লোশানের এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, এটি প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমুদ্রের গভীরতার প্রাকৃতিক চাপকে ব্যবহার করে। এর ফলে পানি পাম্প করা এবং শোধনের জন্য সাধারণত যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, তা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, এই ধরনের একটি একক ইউনিট প্রতিদিন প্রায় ৩৭,৫০০ মানুষের পানির চাহিদা মেটাতে পারে।
পানির নিচে এই প্ল্যান্ট স্থাপনের সুবিধা কেবল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বড় মাপের উপকূলীয় কারখানার তুলনায় এই সিস্টেমগুলো অনেক বেশি নিভৃত এবং পরিবেশের জন্য তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হতে পারে। তবে যেকোনো নতুন প্রযুক্তির মতোই এখানেও মূল প্রশ্নটি রয়ে গেছে: বাস্তব পরিস্থিতিতে এটি কতটা নির্ভরযোগ্য হবে এবং বড় পরিসরে এর প্রয়োগ কতটা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে।
কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নরওয়ে উপকূলে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লোশান ইউনিট চালু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি যদি তার দাবি অনুযায়ী সফল হয়, তবে এটি প্রচলিত ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের একটি উল্লেখযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
পানীয় জল, কৃষিকাজ এবং শহুরে জীবনের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে যেখানে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে, সেখানে সমুদ্রের পানি শোধন অপরিহার্য। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং খরার প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে এই ধরণের প্রযুক্তি উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর জন্য পানির একটি প্রধান উৎস হয়ে উঠছে।




