পৃথিবী কেবল নিজের অক্ষের চারপাশে ঘোরে না। সে নিজের সঙ্গে স্থান-কালকেও টেনে নিয়ে যায়, যেমন ঘন মধুতে ধীরে ঘুরতে থাকা একটি চামচ। সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ দ্বারা পূর্বানুমানিত এবং জড়তা-ব্যবস্থার প্রবাহ বা লেনজে-থিরিং প্রভাব নামে পরিচিত এই ঘটনাটি এতদিন কেবল উপগ্রহের সাহায্যে, বছরের পর বছর তাদের কক্ষপথ পর্যবেক্ষণ করে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।
এখন পদার্থবিজ্ঞানীরা ঠিক সেই একই বিষয় সরাসরি ল্যাবরেটরিতে মাপার একটি উপায় প্রস্তাব করেছেন — মাত্র কয়েক সেকেন্ডে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলির কাই-আইজাক এলার্সের নেতৃত্বে একদল গবেষক Physical Review Letters-এ অতিপ্রবাহী হিলিয়ামভিত্তিক একটি কোয়ান্টাম সেন্সরের নকশা বর্ণনা করেছেন। যন্ত্রটির রূপ হলো ন্যানোপোরাস বিভাজকযুক্ত একটি বলয়াকার মাইক্রোচ্যানেল, যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় হিলিয়াম তার সমস্ত অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণ হারায় এবং জোসেফসন সংযোগের একটি সমতুল্য রূপ গঠন করে।
যেকোনো, এমনকি নগণ্য ক্ষুদ্র ঘূর্ণনও প্রবাহিত হিলিয়ামের কোয়ান্টাম ধর্ম বদলে দেয়। এই পরিবর্তনগুলো সংযোগের মধ্য দিয়ে সহজেই পাঠ করা যায়, ফলে সেন্সরটি পরিণত হয় অতি-সংবেদনশীল জাইরোমিটারে। লেখকদের গণনা অনুযায়ী, স্থান-কালের প্রবাহ প্রভাব মাপার নির্ভুলতা পৌঁছাবে 0,2 শতাংশে — সেরা উপগ্রহ-পরীক্ষাগুলোর সমান, তবে বহু বছরের পর্যবেক্ষণের বদলে মাত্র এক সেকেন্ডে।
এমন গতি নতুন সম্ভাবনা খুলে দেয়। ল্যাবরেটরির যন্ত্রটি কেবল উচ্চ নির্ভুলতায় আইনস্টাইনের পূর্বানুমান নিশ্চিত করাই সম্ভব করবে না, বরং বিকল্প মহাকর্ষ তত্ত্বও পরীক্ষা করতে দেবে, যেখানে প্রবাহ প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। এ ছাড়া এই প্রযুক্তি নৌ-চালনা, ভূ-পদার্থবিজ্ঞানে এবং সম্ভবত মহাকর্ষের কোয়ান্টাম প্রকৃতি খোঁজার ভবিষ্যৎ পরীক্ষাগুলোতেও কাজে লাগবে।
ধারণাটি বাস্তবায়িত করতে এখনো গুরুতর প্রকৌশলী পরিশ্রম প্রয়োজন, তবে আধুনিক প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সক্ষম। যদি পরিকল্পনাটি রূপায়ণ করা যায়, তবে মানবজাতি ব্যয়বহুল উপগ্রহ উৎক্ষেপণ ছাড়াই সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদের সূক্ষ্মতম প্রকাশগুলো অধ্যয়নের জন্য একটি সংহত যন্ত্র পাবে।
