স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে সাধারণ অবস্থায় ধুলিকণার আকার ছাড়িয়ে না যাওয়া পরমাণুগুলি হঠাৎ করে দৈত্যে পরিণত হলো। তাদের ইলেকট্রন কক্ষপথের ব্যাস দাঁড়াল 1,1 মাইক্রোমিটার — সাধারণ পরমাণুর তুলনায় দশ হাজার গুণ বেশি। ঠিক এই ধরনের «ফুলে ওঠা» রিডবার্গ পরমাণুই পদার্থবিজ্ঞানীদের একসাথে তিনটি বিশ্ব রেকর্ড ভাঙতে সাহায্য করেছে।
সাফল্যের চাবিকাঠি হলো ঘরের তাপমাত্রায় বৃত্তাকার রিডবার্গ অবস্থায় রূপান্তর। আগে তাপীয় বিকিরণ থেকে সুরক্ষার জন্য তরল হিলিয়াম দিয়ে শীতলীকরণ প্রয়োজন হতো। অধ্যাপক টিলমান ফাউ এবং ডক্টর ফ্লোরিয়ান মাইনার্টের নেতৃত্বাধীন দল পরমাণুগুলিকে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ থেকে আড়াল করে 11 মিলিসেকেন্ড আয়ুষ্কাল অর্জন করেছে — পূর্ববর্তী ফলাফলের তুলনায় বিশ গুণ বেশি। একইসাথে তারা অপটিক্যাল পিনসেটে রেকর্ড সংরক্ষণ সময় নথিভুক্ত করেছে — 133 মিলিসেকেন্ড।
রিডবার্গ পরমাণুগুলি পাঁচ মাইক্রোমিটার দূরত্বে পারস্পরিক ক্রিয়া করে — পারমাণবিক মাপকাঠিতে বিশাল দূরত্ব। এটি তাদের সুশৃঙ্খল বিন্যাসে সাজানো এবং পারস্পরিক ক্রিয়া সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব করে, যা কোয়ান্টাম সিমুলেটরগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপটিক্যাল পিনসেটে নিরপেক্ষ পরমাণুগুলি ইতিমধ্যেই স্কেলযোগ্য কোয়ান্টাম যন্ত্রের জন্য অন্যতম সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই অর্জন কেবল মৌলিক বিজ্ঞানের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোয়ান্টাম তথ্যের দীর্ঘ সংরক্ষণ সময় গণনার সময় ত্রুটির সম্ভাবনা কমায়, আর ঘরের তাপমাত্রায় কাজ করা ব্যবহারিক প্রয়োগের পথে প্রধান বাধা দূর করে। গবেষকরা উল্লেখ করেন যে তাদের পদ্ধতিটি 1980 সালের একটি ভৌত ধারণার উপর ভিত্তি করে, তবে তা আধুনিক কোয়ান্টাম প্ল্যাটফর্মের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া হয়েছে।
আগামী বছরগুলিতে দলটি এই ভিত্তির উপর আরও শক্তিশালী কোয়ান্টাম সিমুলেটর, কম্পিউটার এবং উচ্চ-নির্ভুল সেন্সর তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। Nature Communications-এ প্রকাশনা নিশ্চিত করে: তিনটি রেকর্ড কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং একটি পদ্ধতিগত অগ্রগতি, যা নির্ভরযোগ্য কোয়ান্টাম প্রযুক্তির যুগকে আরও নিকটে আনছে।
