তাওবাদী অভ্যন্তরীণ অ্যালকেমির প্রতি একটি বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।
❓ প্রশ্ন:
বলা হয়ে থাকে যে, কান ও লি (Kan and Li) সাধনায় শরীরের আগুন ও জলের অবস্থান পরিবর্তন দেহের মৌলিক মেরুকরণের সাথে যুক্ত এবং শারীরিক স্বচ্ছতার জন্য এটি অপরিহার্য। আপনি জীবন সম্পর্কে যে নতুন ও ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পদ্ধতির প্রস্তাব করছেন, তার সাথে এটি কীভাবে সম্পর্কিত? এই বিষয়গুলো যদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে কেন আপনি এই ধরনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন? আর যদি তা না হয়, তবে ১০০ বা তার বেশি বছর তো দূরের কথা, অন্তত আরও ২০ বছর অতিরিক্ত বাঁচার জন্য জীবন সম্পর্কে সাধারণ 'থ্রি-ডি' (3D) মাত্রার ধারণাগুলো কি যথেষ্ট?
❗️ lee-র উত্তর:
আপনি তাওবাদী অভ্যন্তরীণ অ্যালকেমির কথা বলছেন, যা মূলত পাঁচটি উপাদানের (৫ এলিমেন্ট) সারমর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
এই উপাদানগুলো তৈরির পেছনে যে যুক্তি কাজ করে তা সাধারণত এড়িয়ে যাওয়া হয়, ফলে সাধনার মূল অর্থ হারিয়ে যায় এবং এটি কেবল কিছু ব্যায়ামের সমষ্টিতে পরিণত হয়।
প্রকৃতপক্ষে, মৌলিক উপাদানগুলো মিশ্রণ (ঘনীভবন) এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় 'অ্যান্ডারসন ট্রানজিশন' (একটি বৈজ্ঞানিক পরিভাষা) সৃষ্টির মাধ্যমে গঠিত হয়। ইথার ঘনীভূত হয়ে বাতাসে পরিণত হয়, বাতাস আগুনে রূপান্তরিত হয়, আগুন জলে এবং জল শেষ পর্যন্ত মাটিতে পরিণত হয়।
এটি কি আপনার কাছে কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি কমানোর প্রক্রিয়ার মতো মনে হচ্ছে না?
আমাদের শরীরের ভেতর এই কাজটি সম্পন্ন করে চক্রগুলো।
এই চক্রগুলোর নির্দিষ্ট দিকবিন্যাস রয়েছে এবং এগুলো পৃথিবী, সূর্য ও গ্যালাক্সির সংশ্লিষ্ট শক্তির সাথে সংযুক্ত... যা তাওবাদী সাধনায় সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে পরিচিত—অর্থাৎ তাও-এর সাথে একীভূত হওয়া, যা মূলত অমরত্ব লাভ।
'কান ও লি' হলো প্রাথমিক পর্যায়। এই স্তরে একজন মানুষ উপাদানগুলোর রূপান্তরের নিম্নস্তরকে 'উল্টে দেওয়ার' প্রাথমিক কৌশলগুলো রপ্ত করে। আমাদের পরিভাষায় এটি হলো—'ফাইভ-ডি' (5D)-র সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য 'থ্রি-ডি' (3D) কম্পাঙ্কের একটি প্রস্তুতিমূলক পর্যায়। এই পর্যায়ে মানুষ শরীরকে কোনো 'অজানা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র' হিসেবে নয়, বরং 'অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রবাহ' হিসেবে অনুভব করতে শেখে।
অর্থাৎ, আমরা প্রথমে নিজেদের বহুমাত্রিকতা সম্পর্কে জানি, অভ্যস্ত হই এবং ধীরে ধীরে উচ্চতর তাও (যেমন- গ্রাউন্ডিং, হৃদযন্ত্রের শক্তি ইত্যাদি) ব্যবহারের মাধ্যমে শরীরের রূপান্তর ঘটাই।
পৃথিবী বদলে গেছে বলে এই পথ এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। এখন আর মঠের ভেতর বসে থেকে কেবল মঠের আয়ু ২০ বছর বাড়ানোর জন্য ধ্যান করার প্রয়োজন নেই। এখন আপনার কাছে কোনো 'বিশেষ প্রযুক্তি' নয়, বরং বহুমাত্রিক উপলব্ধি বা পারসেপশন সহজলভ্য। আর তা ঠিক সেখানেই সম্ভব, যেখানে আপনি বর্তমানে অবস্থান করছেন।
আমরা আসলে 'কান ও লি'-র অনুশীলনই করছি, তবে এটি জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি স্বয়ংক্রিয় ফলাফল হিসেবে পটভূমিতে চলতে থাকে, কোনো আলাদা স্বতন্ত্র সাধনা হিসেবে নয়। এটি এখনই অসীম ফলাফলসহ সবকিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, বরং অন্য কারো অর্জিত ফলের অন্ধ অনুকরণ করে 'তার স্তরে পৌঁছানোর পর ফল পাওয়ার' আশায় বসে থাকা নয়।
অবশ্যই, তাওবাদী জ্ঞান এখানে বর্ণিত বর্ণনার চেয়েও অনেক বেশি গভীর, তবে সেটি একটি ভিন্ন বিষয় এবং তা আরও বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে আলোচনা করা সমীচীন হবে।



