গবেষণামূলক মডেলে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে স্টেম সেল থেকে তৈরি অগ্ন্যাশয় আইলেট

সম্পাদনা করেছেন: Elena HealthEnergy

গবেষণামূলক মডেলে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে স্টেম সেল থেকে তৈরি অগ্ন্যাশয় আইলেট-1
স্টেম সেল থেকে প্রাপ্ত প্যানক্রিয়াটিক আইসলেটস

ল্যাবরেটরিতে স্টেম সেল থেকে তৈরি কোষের ক্ষুদ্র গুচ্ছগুলো হঠাৎ করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনসুলিন তৈরি করতে শুরু করেছে—এমন একটি ঘটনা যা ডায়াবেটিস মডেলে গত কয়েক মাস ধরে দেখা যায়নি। এই আবিষ্কারটি ডায়াবেটিসকে একটি অপরিবর্তনীয় অবস্থা হিসেবে গণ্য করার প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

গবেষকরা কৃত্রিমভাবে তৈরি প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল থেকে অগ্ন্যাশয়ের কার্যকরী আইলেট বা কোষগুচ্ছ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ইঁদুরের শরীরে এগুলো প্রতিস্থাপনের পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসে। এই কোষগুলো কেবল ইনসুলিনই উৎপাদন করেনি, বরং সুস্থ অগ্ন্যাশয়ের মতোই শর্করার ঘনত্বের পরিবর্তনের সাথে সাথে যথাযথ সাড়া দিতে শুরু করে।

গবেষণার একটি মূল বিষয় ছিল যে, নতুন এই আইলেটগুলো সেই অটোইমিউন আক্রমণ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে যা সাধারণত রোগীর নিজস্ব বিটা-কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। দৃশ্যত, কোষগুলোর বিশেষ আবরণ এবং লালন-পালনের পরিবেশ সেগুলোকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান ছাড়াই শরীরের সাথে মিশে যেতে সাহায্য করেছে। পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রভাব অন্তত ছয় মাস স্থায়ী ছিল—যা একটি স্থিতিশীল ফলাফল হিসেবে গণ্য করার জন্য যথেষ্ট সময়।

এই ধরনের গবেষণা শরীরের হারানো কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমরা কতদূর যেতে পারি, সেই প্রশ্নটি সামনে নিয়ে আসে। যদি স্টেম সেলগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়া গঠনগুলোকে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়, তবে ডায়াবেটিস আর কোনো অমোঘ নিয়তি নয় বরং নিরাময়যোগ্য একটি অবস্থায় পরিণত হবে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এই আইলেটগুলো কেমন আচরণ করবে তা এখনও অস্পষ্ট; কারণ প্রাপ্তবয়স্ক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক বেশি জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদে টিউমার হওয়ার ঝুঁকি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

প্রাত্যহিক জীবনের প্রেক্ষাপটে এর অর্থ হলো প্রতিনিয়ত ইনসুলিন ইনজেকশন নেওয়া এবং নিয়মিত শর্করা পরীক্ষা করা থেকে মুক্তির এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা। প্রতিদিন উপসর্গের সাথে লড়াই করার পরিবর্তে একজন মানুষ হয়তো একবারের একটি চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, যার ফলে শরীর নিজেই নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে। এই সম্ভাবনা কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানকেই বদলে দেয় না, বরং নিজের শরীরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দেয়—যেখানে জটিলতার দুশ্চিন্তার বদলে সুস্থ হওয়ার আশা কাজ করে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই পদ্ধতি ক্লিনিকে প্রয়োগ করতে এখনও অনেক সময় বাকি: প্রথমে বড় প্রাণীদের ওপর এবং পরে স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে গবেষণা চালানো প্রয়োজন। তবুও বর্তমানে এটি পরিষ্কার যে, দীর্ঘমেয়াদী রোগের চিকিৎসায় রিজেনারেটিভ মেডিসিন বা পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসা সম্পূর্ণ নতুন এক পথের দিশা দিচ্ছে।

এই পদ্ধতিটি একদিন হয়তো রোগীদের প্রতিদিন ইনসুলিন নেওয়ার ঝামেলা থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে পারে।

20 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • BioTechniques

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।