নাগাল্যান্ডের পাহাড়ে আগাছা হয়ে উঠছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়ক। আক্রমণকারী Mikania micrantha, যা দ্রুত বেড়ে ওঠার কারণে এখানে «মিনিটে এক মাইল» নামে পরিচিত, বহুদিন ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে আছে। কিন্তু নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ফজল আলী কলেজের সহযোগিতায় এই ক্ষতিকর উদ্ভিদকে মিত্রে রূপান্তরের এক অপ্রত্যাশিত উপায় খুঁজে পেয়েছেন: উদ্ভিদের পাতা ব্যবহার করে সুস্পষ্ট ক্যান্সার-বিরোধী ও ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী গুণসম্পন্ন রূপালি ন্যানোকণিকা সংশ্লেষণ করা।
মূল চাবিকাঠি সবুজ রসায়নের নীতিতে। পাতার জলীয় নির্যাস রূপার আয়নকে বিজারিত করে স্থিতিশীল ন্যানোকণিকা তৈরি করে, যার আকার 12–47 ন্যানোমিটার, এবং এতে শিল্প-সংশ্লেষণে প্রচলিত কোনো বিষাক্ত বিকারক লাগে না। উৎপাদিত কণিকাগুলো উত্তপ্ত করলেও সক্রিয়তা ধরে রাখে এবং ছয়বার পর্যন্ত পুনর্ব্যবহার সহ্য করে, যা এক বিস্ময়কর অনুঘটকীয় স্থিতিশীলতার পরিচয় দেয়।
ব্যবহারিক মূল্য প্রকাশ পায় সংশ্লেষণের গতিতে। ন্যানোকণিকাগুলো ইমিডাজল সংশ্লেষণের জন্য এক কার্যকর অনুঘটক হিসেবে কাজ করে — ইমিডাজল হলো অসংখ্য ঔষধি অণুর মূল গাঠনিক উপাদান। যে বিক্রিয়ার জন্য সাধারণত ঘণ্টার পর ঘণ্টা এবং আক্রমণাত্মক দ্রাবক প্রয়োজন হয়, তা সম্পন্ন হয় মাত্র 30–180 সেকেন্ডে। এর অর্থ কেবল গতি নয়, বিশুদ্ধতাও: কম বর্জ্য, কম দূষণ, কম খরচ।
চিকিৎসা-সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হয়েছে অণুজীবের ওপর। ন্যানোকণিকাগুলো Staphylococcus aureus, Yersinia pestis এবং অন্যান্য রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি দমন করেছে। এই প্রভাব কাজ করে সমন্বয়ের ফলে: রূপার আয়ন কোষ ধ্বংস করে, আর কণিকার পৃষ্ঠে থেকে যাওয়া উদ্ভিদ-যৌগ সেই ক্রিয়াকে আরও জোরদার করে।
সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক ফলাফল এসেছে কোলন ক্যান্সার কোষে (Caco-2)। ন্যানোকণিকার অর্ধ-সর্বোচ্চ নিবারণী ঘনত্ব ছিল 36,17 মাইক্রোগ্রাম প্রতি মিলিলিটার — যা উদ্ভিদের মূল নির্যাসের (72,15 মাইক্রোগ্রাম/মিলিলিটার) প্রায় অর্ধেক। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ন্যানোকণিকাগুলো কোষবিষাক্ত প্রভাব বাড়িয়ে ক্যান্সার কোষের মৃত্যু ঘটায়। ফলাফল ক্যান্সার গবেষণায় এক নতুন দিশা খুলে দেয়।
এই কাজটি একটি প্রখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং ভারতের জাতীয় বিজ্ঞান তহবিলের সহায়তা পেয়েছে। লেখকেরা পদ্ধতিটির ব্যবহারিকভাবে বড় পরিসরে প্রয়োগের সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়েছেন। যেসব দেশে M. micrantha চাষের জমি ও বাগান ঢেকে ফেলে, সেখানে যে আগাছা নিধনে এখন ব্যয়বহুল, তাকে এখন আরও উপকারী কাজে লাগানো যেতে পারে — নতুন ঔষধ ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান উদ্ভাবনে।


