২০২৩ সালে সুন্দর পিচাই ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন, যদিও তার মূল বেতন ছিল মাত্র দুই মিলিয়ন ডলার। এই অংকটি স্রেফ পারিশ্রমিক নয়, বরং যারা ডেটা এবং বিজ্ঞাপনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করেন, বাজার তাদের কতটা দুহাত ভরে পুরস্কৃত করে এটি তারই প্রতিফলন।
পিচাই চেন্নাইয়ের এক প্রকৌশলী ও স্টেনোগ্রাফার দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, স্ট্যানফোর্ড ও ওয়ারটন থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০০৪ সালে গুগলে যোগ দেন। তখন কোম্পানিটি আজকের মতো একচেটিয়া অবস্থানে ছিল না এবং তার প্রথম দায়িত্ব—সার্চ ইঞ্জিন উন্নত করা—নিছক প্রযুক্তিগত মনে হয়েছিল, আর্থিক নয়।
বর্তমানে তার আয়ের প্রায় পুরোটাই আসে শেয়ার থেকে। প্রতিবার যখন অ্যালফাবেট বিজ্ঞাপনের আয় বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়, পিচাইয়ের শেয়ারের দরও লাফিয়ে বাড়ে। এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনা: পরিচালনা পর্ষদ প্রধান নির্বাহীর ব্যক্তিগত সম্পদকে কোম্পানির বাজার মূলধনের সাথে এমনভাবে জুড়ে দিয়েছে যেন তিনি বেতনের চেয়ে শেয়ারের দাম নিয়েই বেশি ভাবেন।
এমন একটি ব্যবস্থা গুগলের একচেটিয়া আধিপত্য রক্ষার ক্ষেত্রে জোরালো উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যবসা বিভাজন বা তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার দাবি তোলে, তখন পিচাই কেবল কর্পোরেশন নয় বরং নিজের সম্পদকেও রক্ষা করেন। বিনিয়োগকারীরা বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং এই আনুগত্য বজায় রাখার জন্যই তাকে বিপুল অর্থ প্রদান করে যান।
একজন সাধারণ মানুষের কাছে পিচাইয়ের এই পথচলা প্রতিভার এক রূপকথার মতো মনে হতে পারে। বাস্তবে এটি প্রকাশ করে যে, আধুনিক অর্থনীতি কীভাবে শীর্ষ ব্যবস্থাপকদের বিশাল শেয়ারের মালিকে পরিণত করে এবং বাকি সবাইকে স্রেফ ব্যবহারকারীতে রূপান্তরিত করে যাদের ডেটা ওই শেয়ারের দর বৃদ্ধির জ্বালানি হয়ে ওঠে। এখানে আয়ের ব্যবধান এখন আর কয়েক গুণ নয়, বরং কয়েকশ গুণ।
পিচাই জনসমক্ষে অর্থ নিয়ে খুব কমই কথা বলেন। তিনি বরং কোম্পানির লক্ষ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন। তবে বার্ষিক প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানগুলো আরও স্পষ্ট কথা বলে: যখন লাখ লাখ মানুষ চাকরির সন্ধান করছেন বা অবসরের জন্য সঞ্চয় করছেন, তখন অ্যালফাবেটের বাজার মূল্যের সাথে সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পদও ক্রমাগত বাড়ছে।
এর মধ্যেই আসল শিক্ষা নিহিত: প্রযুক্তিগত কর্পোরেশনগুলোতে অর্থ এখন আর নিছক ভালো কাজের পুরস্কার নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

