যখন ভিসা, মাস্টারকার্ড, ব্ল্যাকরক এবং আরও ১৪০টিরও বেশি কোম্পানি একসাথে একটি সাধারণ ডলার স্টেবলকয়েন চালুর ঘোষণা দেয়, তখন এটি কেবল ক্রিপ্টো জগতের সাধারণ কোনো খবর থাকে না। এটি একটি সংকেত যে "একজন ইস্যুকারী — একটি টোকেন"-এর প্রচলিত মডেলটি এখন ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।
ওপেন ইউএসডি (Open USD) প্রকল্পটি কোনো সীমা ছাড়াই বিনামূল্যে ইস্যু এবং নগদায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, আর এর রিজার্ভ থেকে প্রাপ্ত আয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এটি 'ওপেন স্ট্যান্ডার্ড' নামক একটি স্বাধীন কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হবে, যার পরিচালনা পর্ষদ অংশীদাররাই গঠন করবেন। ইউএসডিটি (USDT) বা ইউএসডিসি (USDC)-র মতো এখানে কোনো একক পক্ষ একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ পাবে না।
এই পরিকল্পনার পেছনে একটি সুস্পষ্ট হিসাব-নিকাশ রয়েছে। বড় বড় ব্যাংক এবং পেমেন্ট নেটওয়ার্কগুলো স্টেবলকয়েন ইস্যুকারীদের ফি প্রদান এবং তাদের নির্ধারিত রূপরেখার ওপর নির্ভর করতে করতে ক্লান্ত। এখন তারা নিজেরাই এই অবকাঠামোর সহ-মালিক হচ্ছেন এবং রিজার্ভের সুদের একটি অংশ পাচ্ছেন। ব্ল্যাকরক এবং অন্যান্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি তাদের তহবিলে থাকা ট্রিলিয়ন ডলার থেকে অর্থ উপার্জনের একটি নতুন পথ।
বাজারের প্রতিক্রিয়া আসতে দেরি হয়নি: ইউএসডিসি-র ইস্যুকারী কোম্পানি সার্কেল (Circle)-এর শেয়ারের দাম ১৩ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পেরেছেন যে "ডিজিটাল ডলার"-এর ওপর একাধিপত্যের দিন শেষ হয়ে আসছে। ওপেন ইউএসডি যদি সত্যিই কোনো ফি ছাড়াই এবং সম্মিলিত ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়, তবে প্রচলিত স্টেবলকয়েনগুলোকে হয় তাদের লভ্যাংশ কমাতে হবে, নয়তো বাজারের অংশীদারিত্ব হারাতে হবে।
সাধারণ ব্যবহারকারী বা ছোট ব্যবসার জন্য এর অর্থ হলো সাশ্রয়ী এবং দ্রুততর অর্থ লেনদেন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পেমেন্টের ক্ষেত্রে। এখন আর সীমান্তে বা ছুটির দিনে টাকা "আটকে" থাকবে না। তবে এই সুবিধার পেছনে নির্ভরতার একটি নতুন স্তরও রয়েছে: এখন আর কোনো একক নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয়, বরং একটি পুরো কনসোর্টিয়াম ঠিক করবে যে এই লেনদেনের নিয়মগুলো কী হবে।
ইতিহাস সাক্ষী যে, ইন্টারনেট থেকে শুরু করে সুইফট (SWIFT) পর্যন্ত সব যৌথ অবকাঠামোই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় যে কারা এবং কোন শর্তে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। ওপেন ইউএসডি হতে পারে তেমনি পরবর্তী একটি মানদণ্ড, তবে এবার তা হবে ডিজিটাল রূপে।
এখন প্রধান প্রশ্ন প্রকল্পটি চালু হবে কি না তা নয়, বরং বড় অংকের লেনদেন এবং রাজনৈতিক চাপ শুরু হলে এটি কতটা উন্মুক্ত থাকবে সেটাই দেখার বিষয়। আজ যারা এই উদ্যোগে যোগ দিচ্ছেন, আগামীতে তারা যেমন এর প্রধান সুবিধাভোগী হতে পারেন, তেমনি যৌথ সিদ্ধান্তের কাছে জিম্মিও হয়ে পড়তে পারেন।


