যখন সরকারি অর্থ প্রথাগত পথে প্রবাহিত হয়, তখন বিভিন্ন দপ্তর আর মধ্যস্বত্বভোগীদের গোলকধাঁধায় তা হারিয়ে যাওয়া সহজ হয়ে পড়ে। ফিলিপাইন এই চক্র ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে: বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা পুরো জাতীয় বাজেট ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে স্থানান্তর করেছে।
২০২৬ সালের সাধারণ বরাদ্দের পরিমাণ ৬.৭৯৩ ট্রিলিয়ন পেসো। এখন থেকে প্রতিটি পেসো একটি অপরিবর্তনযোগ্য ডিজিটাল লেজারে লিপিবদ্ধ থাকবে। ডিআইসিটি (DICT) সচিব হেনরি আগুদা একে একটি "স্থায়ী ডিজিটাল রসিদ যা জালিয়াতি করা অসম্ভব" বলে অভিহিত করেছেন। 'ডিজিটাল বায়ানিহান চেইন' (Digital Bayanihan Chain) নামক এই উদ্যোগটি সরকারি বাজেটে কোনো খরচ ছাড়াই বেসরকারি খাতের অনুদানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।
এখানে ব্লকচেইন কেবল একটি প্রযুক্তি হিসেবে নয়, বরং সরকারি অর্থের প্রতি মানুষের আস্থার ধরন বদলে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। আগে ব্যয়ের তদারকি সম্পূর্ণভাবে অডিটর এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করত। এখন যে কোনো নাগরিক, সাংবাদিক বা অ্যাক্টিভিস্ট বাজেট পাসের সময় থেকে শুরু করে চূড়ান্ত প্রাপক পর্যন্ত অর্থের গতিপথ অনুসরণ করতে পারবেন—এমনকি কয়েক দশক পরেও তা সম্ভব হবে।
করদাতাদের কাছে এটি কেবল পর্দার কিছু সংখ্যার চেয়েও বেশি কিছু। বাজেট যখন উন্মুক্ত এবং অপরিবর্তনীয় হয়ে যায়, তখন দুর্নীতির সুযোগ কমে আসে: কারিগরিভাবে যে কোনো জালিয়াতি অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে, অর্থ যে সত্যিই ঘোষিত লক্ষ্য—যেমন রাস্তাঘাট, স্কুল বা চিকিৎসা খাতে ব্যয় হচ্ছে, সেই বিষয়ে জনমনে আস্থা বৃদ্ধি পায়।
তবে সত্য এই যে, প্রযুক্তি নিজে থেকে সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। এটি কেবল তথ্য বা ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখে। এই তথ্যের ব্যাখ্যা কে এবং কীভাবে করবে, তা এখন সুশীল সমাজ এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করছে। এছাড়া, ডিআইসিটি (DICT) লাইসেন্স থেকে শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা পর্যন্ত অন্যান্য সরকারি সেবাগুলোতেও ব্লকচেইন চালুর পরিকল্পনা করছে।
বর্তমান বিশ্বে যখন অর্থের অস্তিত্ব দিন দিন ডিজিটাল আকার ধারণ করছে, তখন ফিলিপাইন প্রমাণ করল যে, স্বচ্ছতা কেবল একটি প্রতিশ্রুতি নয় বরং একে কারিগরি বাস্তবে রূপান্তর করা সম্ভব। এখন প্রশ্ন হলো, নাগরিকরা নিজেরা এই হাতিয়ারকে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করবেন।

