এপ্রিলে ক্রিপ্টো বাজারে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের জোয়ার: আস্থার সঞ্চার নাকি সাময়িক উচ্ছ্বাস?

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

এপ্রিল মাসে ক্রিপ্টোবাজারের মূলধন হঠাৎ করে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ২.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই শুষ্ক পরিসংখ্যানের নেপথ্যে কেবল মূল্যের ঊর্ধ্বগতিই নয়, বরং আস্থার এক নীরব রূপান্তর লুকিয়ে আছে: যখন প্রথাগত সম্পদগুলো ক্রমশ অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠছে, তখন লক্ষ লক্ষ মানুষ ও প্রতিষ্ঠান তাদের সঞ্চয় কোথায় রাখবেন তা নতুন করে ভাবছেন।

এই পুঁজি প্রবাহের মূল চালিকাশক্তি হলো এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রাতিষ্ঠানিক এবং খুচরা বিনিয়োগকারীরা। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে তারা বিটকয়েন ও ইথারকে কেবল ফাটকা কারবারের হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং ঝুঁকি হ্রাসের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। যেসব ব্যাংক ও তহবিল আগে দূরত্ব বজায় রাখত, তারা এখন পরবর্তী চক্রের সুযোগ হারানোর ভয়ে ছোট পরিসরে বিনিয়োগ যাচাই করছে।

তবে প্রতিটি জোয়ারের একটি উল্টো পিঠও থাকে, আর তা হলো জনৈক উন্মাদনা বা ভিড়ের মনস্তত্ত্ব। যখন পুঁজি খুব দ্রুত আসে, তখন তা আরও দ্রুত চলে যেতে পারে। ইতিহাস থেকে দেখা যায়, ২০২১ সালের এপ্রিলের সেই চরম উত্তেজনা কীভাবে এক কঠোর বাজার সংশোধনের মুখে পড়েছিল। বর্তমানের ক্রেতারা সম্ভবত একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি করছেন, তবে এবারের আয়তন অনেক বড়।

সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি সহজ পছন্দের বিষয়: হয় প্রচলিত মুদ্রা ও বন্ডে সঞ্চয় ধরে রাখা, নতুবা ডিজিটাল সম্পদের অস্থিরতাকে এর সহজাত বৈশিষ্ট্য হিসেবে মেনে নিয়ে সেখানে সামান্য বিনিয়োগ করা। তবে সবচেয়ে জরুরি হলো, এক রাতে যতটুকু লোকসান সইবার ক্ষমতা আছে, তার বেশি বিনিয়োগ না করা।

ক্রিপ্টোবাজার আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, টাকা এক জায়গায় স্থির থাকতে পছন্দ করে না। এটি সবসময় মুনাফা ও নিরাপত্তা খোঁজে, আর যখন তার সন্ধান পায়, তখন তা স্রোতধারার মতো প্রবাহিত হয়। এখন প্রশ্ন কেবল এটাই যে, এপ্রিলের এই জোয়ার কতদিন স্থায়ী হবে এবং যারা এতে অংশ নিচ্ছেন তাদের জন্য এটি কী শিক্ষা রেখে যাবে।

11 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The cryptocurrency market gained nearly $300 billion in April

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।