বিআইএস-এর সতর্কবার্তা: বিশ্বব্যাপী মুদ্রাব্যবস্থাকে খণ্ডিত করতে পারে স্ট্যাবলকয়েন

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

এমন এক বিশ্বে যেখানে অর্থের লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতিগুলোকে সংযুক্ত করা, বিচ্ছিন্ন করা নয়, সেখানে ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস (বিআইএস)-এর এই সতর্কবার্তা একটি বিপদসংকেত হিসেবেই দেখা দিচ্ছে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩১৬ বিলিয়ন ডলারের স্ট্যাবলকয়েন বাজার বিশ্বব্যাপী মুদ্রাব্যবস্থাকে খণ্ডিত করার এবং নিজস্ব মুদ্রার ওপর সার্বভৌম দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

ফিয়াট কারেন্সির সাথে যুক্ত স্ট্যাবলকয়েনগুলো স্থিতিশীলতা এবং দ্রুত লেনদেনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। তবে বিআইএস উল্লেখ করেছে যে, এগুলো একতা (singleness), স্থিতিস্থাপকতা এবং সততার মতো মৌলিক পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ হতে পারছে না। ব্যাংক আমানতের মতো এই টোকেনগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা বলয় নেই, যা বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের চাপ সামলাতে পারে। ব্যক্তিগত ডিজিটাল সম্পদে আমানতের এই স্থানান্তর ব্যাংকগুলোর অর্থায়নকে সংকুচিত করতে পারে এবং প্রকৃত অর্থনীতিতে ঋণের প্রবাহকে সীমিত করতে পারে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই সমস্যাটি বিশেষভাবে প্রকট। বাজারের ৯৮ শতাংশ দখল করে থাকা ডলার-ভিত্তিক স্ট্যাবলকয়েনগুলো 'ডিজিটাল ডলারাইজেশন'-কে ত্বরান্বিত করছে। এসব দেশের বাসিন্দারা বিদেশি টোকেনে সঞ্চয় রাখার মাধ্যমে সহজেই পুঁজি ব্যবহারের বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাচ্ছেন। এটি মুদ্রাগত সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করছে: কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার ও বিনিময় হারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে এবং পুঁজির প্রবাহ আরও বেশি অস্থির হয়ে উঠছে।

এক্ষেত্রে উভয়ের স্বার্থ অত্যন্ত স্পষ্ট। স্ট্যাবলকয়েনের বেসরকারি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রোগ্রামযোগ্যতা ও ছদ্মনামের সুবিধা দিয়ে নিজেদের ব্যবসার প্রসার ও মুনাফা বৃদ্ধির চেষ্টা করে। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ব্যাংকগুলো একটি দ্বি-স্তরের ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে চায়, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ডিজিটাল যুগে অর্থের একতা বজায় রাখতে বিআইএস কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ টোকেনাইজ করার প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানিয়েছে।

আর্জেন্টিনা বা নাইজেরিয়ার একটি সাধারণ পরিবারের কথা ভাবুন: স্থানীয় মুদ্রায় সঞ্চয় রাখার পরিবর্তে তারা মাত্র কয়েকটি ক্লিকেই তাদের অর্থ ডলার-ভিত্তিক স্ট্যাবলকয়েনে স্থানান্তর করছে। এটি সুবিধাজনক মনে হলেও, যদি অধিকাংশ মানুষ একই কাজ করে, তবে স্থানীয় ব্যাংকগুলো আমানত হারাবে, ঋণের খরচ বাড়বে এবং অর্থনীতি বিদেশের প্ল্যাটফর্মগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এটি কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়—বরং অর্থের ওপর ক্ষমতার এক নতুন বণ্টন ব্যবস্থা।

ইতিহাস শিক্ষা দেয় যে, অর্থ তখনই কার্যকর হয় যখন তা সুসংগত এবং অনুমানযোগ্য থাকে। ডজন ডজন ব্লকচেইন এবং টোকেনের বিভাজন নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে—যার মধ্যে রয়েছে কার্যক্রম পরিচালনাগত ত্রুটি থেকে শুরু করে বিনিময়যোগ্যতার সমস্যা। বিআইএস উদ্ভাবনকে নিষিদ্ধ না করে বরং একে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছে, যেখানে টোকেনাইজড আমানত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।

শেষ পর্যন্ত পছন্দ আমাদেরই: আমরা কি বেসরকারি টোকেনগুলোকে মুদ্রাব্যবস্থার সীমানা নষ্ট করতে দেব, নাকি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অর্থের প্রতি আস্থা বাড়াতে এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাব?

26 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Crypto Roundup — Last 6 Hours

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

🏛️ POLICY: Thailand’s new Travel Rule will make regulated crypto platforms collect sender and recipient details for coin transfers from Feb. 27, 2027. Transfers above 30,000 baht face extra checks, including ownership verification when funds arrive from a self-hosted wallet.

Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।