২০৩০ সাল পর্যন্ত ফেড-এর ডিজিটাল ডলার 'নিষিদ্ধ' করল মার্কিন কংগ্রেস: মূল লক্ষ্য স্টেবেলকয়েন

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

মার্কিন কংগ্রেস ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের ডিজিটাল ডলার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং বিলটি স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠিয়েছে। অথচ মজার ব্যাপার হলো, ডিজিটাল ডলারের বর্তমানে কোনো অস্তিত্বই নেই এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি চালু করার মতো কোনো পরিকল্পনাও ছিল বলে মনে হয় না। ফলে দেখা যাচ্ছে, যা বাস্তবে নেই তা নিষিদ্ধ করতেই আইনপ্রণেতারা ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন।

এই বিলটি ‘টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি পাথওয়ে টু হাউজিং অ্যাক্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা যেকোনো মূল্যে পাস হওয়া নিশ্চিত ছিল। সিনেটে এটি ৮৫-৫ ভোটে এবং প্রতিনিধি পরিষদে ৩৫৮-৩২ ভোটে বিপুল সমর্থন পায়। বিরল এই দ্বিপাক্ষিক সমর্থন ইঙ্গিত দেয় যে, এই আইনের পেছনে বড় ধরনের কোনো স্বার্থ কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ফেড-কে থামানো নয়, বরং বেসরকারি স্টেবেলকয়েনগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বিলটির বয়ানে ‘উন্মুক্ত, অনুমতিহীন এবং বেসরকারি ডলার-সম্পদ’ রক্ষার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো USDT, USDC এবং অন্যান্য স্টেবেলকয়েনগুলো সবুজ সংকেত পাচ্ছে, যার ফলে সরকার এবং ইস্যুকারীরা লেনদেনের ওপর নজরদারি বজায় রাখার সুযোগ পাবে। ফলস্বরূপ, সিবিডিসি (CBDC) বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে ‘ডিস্টোপিয়ান’ নিয়ন্ত্রণের যে শঙ্কা ছিল, তা আংশিকভাবে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর হাতে চলে যাচ্ছে।

প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্যটি পরিষ্কার: ব্যাংক এবং বড় স্টেবেলকয়েন ইস্যুকারীরা সরকারি ডিজিটাল মুদ্রার সাথে প্রতিযোগিতা করতে চায় না, কারণ এটি তাদের বিদ্যমান অবকাঠামোকে এড়িয়ে চলতে সক্ষম। একই সাথে, তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ব্যবহারকারীদের তথ্যে প্রবেশাধিকার দিতেও প্রস্তুত—যা মূলত সিবিডিসি সমালোচকদের প্রধান আশঙ্কার কারণ ছিল। এতে অর্থের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাত থেকে সরাসরি বেসরকারি মহলের কাছে চলে যাচ্ছে, যেখানে প্রশাসনের কেবল আনুষ্ঠানিক অনুমোদন থাকছে।

সাধারণ মানুষের জন্য এর মানে হলো ফোনে বা এক্সচেঞ্জে থাকা ডলারগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে এবং ডিজিটাল পেমেন্টের প্রকৃত গোপনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যাবে। প্রবাদ আছে, ‘যে কড়ি দেবে সে-ই গান শোনাবে’—তবে এখন রাষ্ট্র এবং বড় কর্পোরেশন উভয়ই যুগপৎভাবে সেই অর্থ যোগানদাতার ভূমিকা পালন করছে।

২০৩০ সাল পর্যন্ত এই আইনটিকে চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞার চেয়ে বরং সময়ক্ষেপণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে স্টেবেলকয়েনগুলো নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পাবে এবং ফেডারেল রিজার্ভও হয়তো তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করবে। এখন মূল প্রশ্নটি ডিজিটাল ডলার চালু হওয়া নিয়ে নয়, বরং শেষ পর্যন্ত আমাদের দৈনন্দিন খরচের তথ্য কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং তার বিনিময়ে আমাদের কী মূল্য দিতে হবে—তা নিয়ে।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Congress pushes forward bill to ban a digital dollar that doesn’t exist

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।