দুর্বল চৌম্বক ক্ষেত্র ও পুনর্যৌবন লাভ: যেভাবে তড়িৎচৌম্বকীয় সংকেত ইঁদুরের কোষকে আংশিক রিপ্রোগ্রাম করে

সম্পাদনা করেছেন: Aleksandr Lytviak

বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ডিএনএ-তে কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই দুর্বল তড়িৎচৌম্বকীয় ক্ষেত্র ইঁদুরের কোষগুলোকে আশ্চর্যজনকভাবে অপেক্ষাকৃত তরুণ অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।

'সেল' জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা জানাচ্ছে যে, এই ক্ষেত্রগুলো অনেকটা 'ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরের' মতো আংশিক রিপ্রোগ্রামিং সক্রিয় করে এবং এর মাধ্যমে প্রাণীদের আয়ু কয়েক মাস পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

এখন মূল প্রশ্ন হলো, এই প্রভাব ঠিক কতটা স্থায়ী এবং জিন এক্সপ্রেশনে কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে এর সুফলগুলোকে আলাদা করা সম্ভব কি না।

এই গবেষণার প্রেক্ষাপট মূলত বার্ধক্যের এপিজেনেটিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কাজের সাথে জড়িত; ২০১০-এর দশকের দিকেই এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, বার্ধক্য মূলত মিউটেশনের ওপর নয় বরং ক্রোমাটিন এবং ডিএনএ মেথিলেশনের অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

নতুন এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সেল কালচার এবং পূর্ণাঙ্গ ইঁদুরের ওপর নিম্ন-কম্পাঙ্কের ক্ষেত্র প্রয়োগ করেছেন, যেখানে কোষের বার্ধক্যজনিত লক্ষণ হ্রাস পাওয়া এবং টিস্যু পুনর্গঠনের উন্নতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জিনগত রিপ্রোগ্রামিং পদ্ধতির সাথে তুলনায় এর একটি বড় সুবিধা হলো—এই তড়িৎচৌম্বকীয় ক্ষেত্রগুলো কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই কাজ করে এবং এর প্রভাব পরিবর্তনযোগ্য, তবে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার তথ্য এখনো সীমিত এবং এর জন্য স্বাধীন গবেষণাগারগুলোতে পুনরায় পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

একটি রেডিওর কথা ভাবুন যা স্টেশন পরিবর্তন না করে কেবল টিউনিং নবটি ঘুরিয়ে সূক্ষ্ম সমন্বয় করে—এতে সিগন্যাল একই থাকে কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ কমে গিয়ে সুরটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে; ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষেত্রগুলো কোষের এপিজেনেটিক ‘শব্দ’ বা ত্রুটির ওপর অনেকটা এভাবেই প্রভাব ফেলে।

এই প্রক্রিয়াটি যদি শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়, তবে এটি এমন সব প্রযুক্তির পথ প্রশস্ত করবে যা বার্ধক্যকে কেবল ক্ষতির সমষ্টি হিসেবে নয়, বরং একটি তথ্যগত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে তার প্রতিকার করবে।

12 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Electromagnetic field (EMF) activation of gene therapy for partial cell reprogramming

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।