জাপানের আজাবু বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুনমা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা 'টোকিও টিন কোহর্ট' প্রকল্পের ১৩ বছর বয়সী ৩৪৩ জন কিশোর-কিশোরীর তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছেন। এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়েছিল: ৯৬ জন কিশোর-কিশোরী যাদের বাড়িতে কুকুর আছে এবং ২৪৭ জন যাদের কোনো পোষা প্রাণী নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের কুকুর আছে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের মান পোষা প্রাণীহীন সহপাঠীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো। গবেষক এইজি মিয়াচি এবং তাকেফুমি কিকুসুই-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই কাজটি কিশোর-কিশোরীদের অন্ত্র এবং লালার অণুজীবের (মাইক্রোবায়োম) পরিবর্তনের সাথে এই প্রভাবের যোগসূত্র স্থাপন করেছে।
যেসব কিশোর-কিশোরীর পরিবারে কুকুর আছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ, আগ্রাসন এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা পরিসংখ্যানগতভাবে অনেক কম দেখা গেছে। বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, সামাজিক সমস্যার ক্ষেত্রে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট ছিল। তাদের শরীরে সহানুভূতি এবং পরোপকারী আচরণের সাথে সম্পর্কিত ব্যাকটেরিয়া বেশি পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, 'স্ট্রেপ্টোকক্কাস' (Streptococcus) প্রজাতির অণুজীব এখানে মূল ভূমিকা পালন করে—ল্যাবরেটরির ইঁদুরের শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া স্থানান্তরের পর তারা একে অপরের সাথে আরও বেশি সামাজিক আচরণ করতে শুরু করে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, কুকুরের সাথে মেলামেশা কেবল মানসিক চাপই কমায় না, বরং কিশোর-কিশোরীদের দেহের অণুজীবের বিন্যাসকেও প্রভাবিত করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রভাবের মূল প্রক্রিয়াটি হলো একসাথে বসবাসের মাধ্যমে কুকুর থেকে মানুষের শরীরে সরাসরি অণুজীবের স্থানান্তর। কুকুরের অণুজীব কিশোর-কিশোরীদের অন্ত্র এবং মুখের গহ্বরের ব্যাকটেরিয়ার গঠনকে প্রভাবিত করে, যা তথাকথিত 'অন্ত্র-মস্তিষ্ক অক্ষ' (gut-brain axis)-এর মাধ্যমে তাদের মেজাজ এবং আচরণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, অণুজীবগুলো নিউরোট্রান্সমিটার এবং অন্যান্য জৈব-সক্রিয় পদার্থের উৎপাদনে প্রভাব ফেলে, যা সামাজিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। অংশগ্রহণকারীদের লালার নমুনার বিশ্লেষণে কুকুর পালক এবং অপালক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অণুজীবের প্রোফাইলের পার্থক্য নিশ্চিত হয়েছে: যদিও প্রজাতির বৈচিত্র্য একই রকম ছিল, তবে অণুজীব সম্প্রদায়ের গঠনগত পার্থক্য ছিল উল্লেখযোগ্য।
পরিবারের জন্য এর অর্থ হলো একটি বাস্তব সুবিধা: একটি পোষা কুকুর বয়ঃসন্ধির এই সংকটময় সময়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি প্রাকৃতিক সহায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যারা পোষা প্রাণীর যত্ন নেয় এবং তাদের সাথে হাঁটতে বের হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয়—গবেষণাটি নিশ্চিত করে যে, পোষা প্রাণীর সাথে সময় ব্যয় করার বিনিয়োগ পরিমাপযোগ্য ফলাফল দেয়।
এই গবেষণাটি মানুষের ওপর প্রাণীদের ইতিবাচক প্রভাব সংক্রান্ত ক্রমবর্ধমান তথ্যভাণ্ডারের একটি অংশ এবং এটিই প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক প্রমাণ দেয় যে, এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে অণুজীব একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক মাধ্যম। গবেষণাটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে 'আইসায়েন্স' (iScience) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং জাপানি সরকারি বৈজ্ঞানিক কর্মসূচির সহায়তা পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন এই প্রভাব সময়ের সাথে সাথে কতটা স্থায়ী হয় এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থা বা অন্যান্য চলক কীভাবে অণুজীবকে প্রভাবিত করে, তা বোঝার জন্য পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।



