ইন্সটাগ্রাম এবং ফেসবুকের 'নেশাদায়ক' ডিজাইনকে আইনি লঙ্ঘন বলে স্বীকৃতি দিয়েছে ইইউ: যখন আসক্তিই হয়ে দাঁড়ায় ফাঁদ

সম্পাদনা করেছেন: Irena II

ইন্সটাগ্রাম এবং ফেসবুকের 'নেশাদায়ক' ডিজাইনকে আইনি লঙ্ঘন বলে স্বীকৃতি দিয়েছে ইইউ: যখন আসক্তিই হয়ে দাঁড়ায় ফাঁদ-1

ইউরোপীয় কমিশন তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, ইন্সটাগ্রাম এবং ফেসবুকের ডিজাইন ডিজিটাল পরিষেবা আইন বা ডিএসএ লঙ্ঘন করছে: এর অন্তহীন স্ক্রোলিং, ভিডিওর অটো-প্লে এবং ব্যক্তিগতকৃত রিকমেন্ডেশন ব্যবহারকারীদের এক প্রকার 'অটো-পাইলট মোডে' আটকে রাখছে, যা বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

এটি কেবল কিছু যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিষয় নয়, বরং মেটা-র ডিজাইনার ও প্রোডাক্ট টিমের সুচিন্তিত পরিকল্পনার ফসল, যারা গত কয়েক দশক ধরে ব্যবহারকারীদের অ্যাপের মধ্যে সর্বোচ্চ সময় ধরে রাখার জন্য ইন্টারফেসটিকে অপ্টিমাইজ করেছে। এর বাণিজ্যিক যুক্তি খুবই স্পষ্ট: একজন ব্যক্তি যত বেশি সময় ধরে স্ক্রোল করবেন, তিনি তত বেশি বিজ্ঞাপন দেখবেন এবং প্ল্যাটফর্মের আয়ও তত বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন দাবি করেছে যে, কোম্পানিকে ডিফল্টভাবে অটো-প্লে এবং অন্তহীন ফিড বন্ধ করতে হবে, বাধ্যতামূলক বিরতি চালু করতে হবে এবং তরুণদের রাতের সময়ের সক্রিয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। অন্যদিকে মেটা জোর দিয়ে বলছে যে, তারা ইতিমধ্যেই সীমাবদ্ধতা সহ 'টিন অ্যাকাউন্টস' চালু করেছে এবং তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত নয়।

এই পুরো ঘটনার পেছনে একটি গভীর দ্বন্দ্ব কাজ করছে: মনোযোগ ধরে রাখার জন্য তৈরি করা ডিজাইনগুলো অনিবার্যভাবেই মানুষের বোধশক্তির সীমার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। এমন একজন মানুষের কথা ভাবুন যিনি কেবল পাঁচ মিনিটের জন্য মেসেজ চেক করতে ঢুকেছিলেন, কিন্তু এক ঘণ্টা পরও রিলস দেখছেন—মূলত এই ধরণের পরিস্থিতিকেই অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।

২০২৬ সালে ডিএসএ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এটি মেটা-র জন্য দ্বিতীয় ঘটনা: গত এপ্রিলে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সুরক্ষায় গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। জরিমানার পরিমাণ বার্ষিক আয়ের ৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, তবে অঙ্কের চেয়েও বড় বিষয় হলো এই বার্তা: ডিজাইনাররা কোনো দায়বদ্ধতা ছাড়াই মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অপব্যবহার করবে, সেই যুগের অবসান ঘটতে চলেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল ডিজাইন এখন আর কেবল কর্পোরেটদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এটি এখন জনস্বার্থমূলক নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসছে, যেখানে কোনো অ্যাপের নান্দনিকতা বা ব্যবহারযোগ্যতা কেবল গ্রাহকের আসক্তির মাপকাঠিতে নয়, বরং মানুষের জীবনের ওপর এর প্রকৃত প্রভাবের ভিত্তিতে বিচার করা হবে।

26 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Meta found to breach EU laws with 'addictive' Instagram ...

মন্তব্য

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

2026 design trend should be wabi-sabi. 🖤 Imperfections made by real humans - hand-drawn logos and typography, little intentional mistakes that give a brand personality and unaligned grids that remind you there’s a human behind every pixel.​​​​​​​​​​​​​​​​ While AI tries to

Image
Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।