অবচেতন মন যেভাবে হুমকি ফিল্টার করে: নেতিবাচক শব্দ সচেতনতায় আসার সুযোগ পায় খুব কম

সম্পাদনা করেছেন: Alex Khohlov

১০১ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর চালানো একটি গবেষণায় এক অভাবনীয় ফলাফল পাওয়া গেছে: স্ক্রিনে বিভিন্ন আকৃতি নিয়ে একটি ভিজ্যুয়াল টাস্কে মনোযোগ দেওয়ার সময়, তারা সাধারণ শব্দের চেয়ে নেতিবাচক শব্দগুলো খুব কম লক্ষ্য করেছেন। হেডফোনের মাধ্যমে নিরর্থক কিছু শব্দের প্রবাহ বাজানো হচ্ছিল, যার মাঝে মাঝে হিব্রু ভাষার কিছু আসল শব্দ জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে গাল চেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি দেখাচ্ছে যে, সচেতন মনে কোনো তথ্য পৌঁছানোর বাছাই প্রক্রিয়াটি আমাদের সাধারণ ধারণার চেয়েও অনেক আগে ঘটে।

এই ফলাফল সচেতনতা বিষয়ক তত্ত্বগুলোর একটি মূল ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে: এতদিন ধারণা করা হতো যে, কোনো কিছুর আবেগীয় গুরুত্ব উদ্দীপককে মস্তিষ্কের গ্লোবাল ওয়ার্কস্পেসে পৌঁছাতে সাহায্য করে। বার্নার্ড বার্স এবং স্ট্যানিস্লাস ডিহেনের গ্লোবাল ওয়ার্কস্পেস থিওরি অনুযায়ী, আবেগপূর্ণ সংকেতগুলোর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের উদ্দীপনা বা ইগনিশন দ্রুত হওয়া উচিত। তবে এই গবেষণায় দেখা গেছে, কাজের চাপ বা কগনিটিভ লোড কম থাকা সত্ত্বেও নেতিবাচক শব্দগুলোকে মস্তিষ্ক নিয়মতান্ত্রিকভাবে এড়িয়ে গেছে।

গবেষণার পদ্ধতিতে বিভিন্ন শব্দ এবং ভিজ্যুয়াল টাস্কের জটিলতার মাত্রা পরিবর্তন করে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা চালানো হয়েছিল; সহজ বা কঠিন উভয় ধরনের কাজের ক্ষেত্রেই একই ফলাফল বজায় ছিল। লেখকরা কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন: এখানে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কোনো সংযুক্ত বাক্য নয়, এবং ইতিবাচক বা নিষিদ্ধ শব্দগুলো পরীক্ষা করা হয়নি। তবুও, এই তথ্যগুলো ইঙ্গিত দেয় যে মস্তিষ্ক কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে তথ্য এড়িয়ে যায় না, বরং অবচেতনভাবে সক্রিয়ভাবে তা ফিল্টার করে।

কোনো ক্লাবের প্রবেশদ্বারে থাকা একজন নিরাপত্তারক্ষীর কথা কল্পনা করুন, যিনি ভেতরে প্রবেশকারীর অনুমতি না নিয়েই সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলাকারীদের দরজার কাছে পৌঁছানোর আগেই ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আমাদের কগনিটিভ সিস্টেম বা জ্ঞানীয় ব্যবস্থাও সম্ভবত এভাবেই কাজ করে: এটি নেতিবাচক তথ্যের সম্ভাব্য প্রভাব বা মূল্য পরিমাপ করে এবং সেই মূল্য চুকাতে না চেয়ে তথ্যটিকে সচেতনতার দোরগোড়ার বাইরেই রেখে দেয়।

এই আবিষ্কার কেবল সচেতন মনের প্রবেশাধিকার নিয়ে নয়, বরং বিভিন্ন ক্লিনিকাল সমস্যার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক অবস্থায় যদি এই সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর থাকে, তবে তীব্র উদ্বেগ বা পিটিএসডির (PTSD) ক্ষেত্রে এটি অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে এবং এমন সব তথ্য সচেতন মনে ঢুকিয়ে দিতে পারে যা সাধারণত ফিল্টার হয়ে যাওয়ার কথা। এটি এমন নতুন গবেষণার পথ খুলে দিচ্ছে যেখানে অবচেতন বাছাই প্রক্রিয়াকে চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ব্যাপকভাবে বলতে গেলে, এই পরীক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সচেতনতা কেবল তথ্য প্রক্রিয়াকরণের শেষ ধাপ নয়, বরং এটি একটি সক্রিয় এবং পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনের ফল। আমরা শেষ পর্যন্ত যা লক্ষ্য করি, তা ইতিমধ্যেই এমন একটি ফিল্টার অতিক্রম করে এসেছে যার মানদণ্ডগুলো আমরা কেবল এখন বুঝতে শুরু করেছি।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • A new study offers insight into how the brain determines which information enters conscious awareness

  • Your brain may block negative words before you even hear them - Earth.com

  • Global Workspace Theory: A Mechanistic Approach to Consciousness

  • Our Brains May Be Automatically Filtering Out Negative Words - Mirage News

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।