২০২৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিস্যায় সৌরশক্তি কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ছাড়িয়ে গেছে। এম্বার (Ember) নামক সংস্থার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১২.৮ শতাংশ এসেছে সৌর উৎস থেকে, যেখানে কয়লার অবদান ছিল ১২.২ শতাংশ।
এক মাসে রেকর্ড ৪৫.৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা সৌরশক্তি উৎপাদনের ফলে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের মে মাসের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল বেশ নিম্নমুখী: এপ্রিলে এটি ঐতিহাসিক সর্বনিম্নে পৌঁছানোর পর মে মাসে সামান্য বেড়েছে মাত্র।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস ও পারমাণবিক শক্তির ঠিক পরেই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌরশক্তি। গত পাঁচ বছরে জ্বালানি মিশ্রণে এর অংশ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি শীর্ষস্থানে রয়েছে।
এম্বারের বিশ্লেষক নিকোলাস ফুলগাম উল্লেখ করেছেন যে, এই মাসের চিত্রটি আমেরিকান বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সৌরশক্তির অগ্রগতির প্রমাণ দেয়—একটি নগণ্য উৎস থেকে এটি এখন তৃতীয় বৃহত্তম ও দ্রুততম বর্ধনশীল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তিনি প্রত্যাশা করেন যে এ ধরনের ঘটনা আগামীতে আরও প্রায়ই দেখা যাবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বার্ষিক পরিসংখ্যানেও সৌরশক্তি কয়লাকে ছাড়িয়ে যাবে।
মজার বিষয় হলো, কয়লা শিল্পকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তৈরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতিমালার মধ্যেই এই অনন্য মাইলফলকটি অর্জিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট খাতের দীর্ঘমেয়াদী ধারার ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে তা এখন দেখার বিষয়।
এম্বারের এই তথ্যগুলো সরকারি মাসিক পরিসংখ্যান এবং প্রাথমিক প্রতি ঘণ্টার উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সোলার এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং উড ম্যাকেঞ্জির প্রতিবেদনগুলোও একই ধরনের ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।



