জাতিসংঘের প্রস্তাব: কেবল জিডিপি নয়, ভিন্ন মানদণ্ডে মাপা হবে দেশের সাফল্য

সম্পাদনা করেছেন: Svitlana Velhush

জাতিসংঘের প্রস্তাব: কেবল জিডিপি নয়, ভিন্ন মানদণ্ডে মাপা হবে দেশের সাফল্য-1

২০২৬ সালের মে মাসে জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে উন্নয়নের প্রধান সূচক হিসেবে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ওপর প্রচলিত নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই নথি অনুযায়ী, জিডিপি একটি দেশের অভ্যন্তরে বিরাজমান বৈষম্য, পরিবেশের অবস্থা কিংবা মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে না।

জাতিসংঘের প্রস্তাব: কেবল জিডিপি নয়, ভিন্ন মানদণ্ডে মাপা হবে দেশের সাফল্য-1

প্রতিবেদনের রচয়িতারা উল্লেখ করেছেন যে, কয়েক দশক ধরে এই সূচক ব্যবহারের ফলে অনেক রাষ্ট্র উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও শেষ পর্যন্ত সামাজিক অস্থিরতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতির মুখে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, মূল্যায়নের নতুন ব্যবস্থায় জনস্বাস্থ্য, শিক্ষার গুণমান এবং বাস্তুসংস্থানের স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এই আলোচনার প্রধান অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলো, যারা দারিদ্র্যের প্রকৃত চিত্র এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি আড়াল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে জিডিপির সমালোচনা করে আসছে। অন্যদিকে, উন্নত অর্থনীতিগুলো এ ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছে, কারণ নতুন মানদণ্ড গ্রহণ করলে আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং এবং অর্থায়নের সুযোগের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানে প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, অগ্রগতির পরিমাপের বর্তমান পদ্ধতিগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তৈরি করা হয়েছিল এবং এগুলো একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে আর সংগতিপূর্ণ নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বিকল্প সূচকগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যান বিভাগগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে এবং এতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

মজার বিষয় হলো, জাতিসংঘের এই উদ্যোগ সমাজের প্রকৃত কল্যাণ কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা বিতর্কেরই প্রতিধ্বনি। একটি পুরনো প্রবাদে যেমন বলা হয়, "চকচক করলেই সোনা হয় না," তেমনি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানও মাঝেমধ্যে অনেক গভীর সমস্যাকে আড়াল করে রাখে।

নতুন এই মানদণ্ডগুলো প্রবর্তিত হলে তা সরকারি নীতিমালার অগ্রাধিকার বদলে দিতে পারে: কেবল জিডিপি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সরকারগুলো এখন দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে। এটি বিশেষ করে সেইসব দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি চড়া সামাজিক মূল্যও দিতে হয়েছে।

পরিশেষে, জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন প্রকৃত অগ্রগতি বোঝার ক্ষেত্রে একটি সঠিক পথ উন্মোচন করেছে, যদিও নতুন এই পদ্ধতিগুলোর বাস্তব প্রয়োগের জন্য সময় এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন হবে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • GDP up, satisfaction down: Why we need a new way to measure progress

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।