রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআই-এর সাথে সংশ্লিষ্ট ওপেনএআই ফাউন্ডেশন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে রূপান্তরের সময়ে কর্মী ও অর্থনীতিকে সহায়তা করতে ২৫ কোটি ডলারের একটি তহবিল ঘোষণা করেছে।
এই উদ্যোগের আওতায় পুনপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর পেশার ওপর নির্ভরশীল অঞ্চলগুলোকে সহায়তা এবং শ্রমবাজারের ওপর এআই-এর প্রভাব নিয়ে গবেষণার কাজ করা হবে। প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সামাজিক প্রভাবগুলো প্রশমিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ওপেনএআই ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সংস্থা যা ওপেনএআই কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করে। ২০২৫ সালে ওপেনএআই থেকে পৃথক হওয়া এই ফাউন্ডেশনটি বর্তমানে কোম্পানির ২৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক। এটি ফাউন্ডেশনটির প্রথম বড় ধরনের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি: এই ২৫ কোটি ডলার অলাভজনক সংস্থাকে অনুদান প্রদান এবং সরাসরি উদ্যোগের মাধ্যমে এআই-জনিত পরিবর্তনগুলোর সাথে কর্মীদের মানিয়ে নিতে খরচ করা হবে। শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ না করে, এই কর্মসূচিগুলো পরিচালনার জন্য ফাউন্ডেশনটি নিজস্ব একটি দল গঠন করবে। এ ছাড়া, প্রযুক্তির অর্থনৈতিক প্রভাব আগেভাগেই অনুমান করতে ফাউন্ডেশনটি এআই-সিমুলেশন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই ঘোষণার পেছনে একটি নির্দিষ্ট কৌশল কাজ করে: সামাজিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগের ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়াকড়ি কমতে পারে এবং সরকারের সাথে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা সম্ভব হয়। রয়টার্স উল্লেখ করেছে যে, শিক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই অর্থ বণ্টন করা হবে।
এ ধরণের পদক্ষেপগুলো একটি বৃহত্তর প্রবণতাকে নির্দেশ করে, যেখানে প্রযুক্তি উৎপাদনকারী কর্পোরেশনগুলোই সমাজকে সেই প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে অর্থায়ন করছে। এটি একটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেখানে বেসরকারি পুঁজি আংশিকভাবে সেই দায়িত্বগুলো পালন করে যা ঐতিহ্যগতভাবে রাষ্ট্রের কাজ হিসেবে বিবেচিত।
উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে এ ধরণের কর্মসূচি শ্রমশক্তির পুনর্বিন্যাস ত্বরান্বিত করতে পারে, তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা এবং অর্থ বণ্টনের স্বচ্ছতার ওপর। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগটি মূলত স্বল্পমেয়াদী পুনপ্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিগত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে, এ ধরণের উদ্যোগের সাফল্য কেবল অর্থের পরিমাণের ওপর নয়, বরং জাতীয় কর্মসংস্থান কৌশলের সাথে এগুলোকে কতটা সমন্বিত করা যাচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে।



