ভারতে গ্রামীণ অঞ্চলের ৮০ শতাংশেরও বেশি বাড়িতে এখন সুরক্ষিত পানীয় জলের সংযোগ রয়েছে, যা ২০১৯ সাল থেকে চালু হওয়া একটি যুগান্তকারী প্রকল্পের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্পটি দেশের জল সরবরাহ ব্যবস্থায় এক অসাধারণ অগ্রগতি এনেছে। মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে, গ্রামীণ পরিবারগুলিতে নলবাহিত জলের সংযোগের হার ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা একটি বিশাল সাফল্য। এই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে ভারত সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী 'জল জীবন মিশন' কর্মসূচির হাত ধরে, যার মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিটি গ্রামীণ বাড়িতে পর্যাপ্ত, নিরাপদ এবং নিয়মিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া, যা কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করছে।
২০১৯ সালের আগস্ট মাসে যখন 'জল জীবন মিশন' আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল, তখন দেশের গ্রামীণ পরিবারগুলির মধ্যে পানীয় জলের সংযোগের চিত্রটি ছিল বেশ হতাশাজনক। সেই সময় ভারতের প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ বাড়ি, যা মোট গ্রামীণ পরিবারের মাত্র ১৬.৭ শতাংশ ছিল, নলবাহিত জলের সুবিধা পেত। এই পরিসংখ্যান গ্রামীণ এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র অভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক সমস্যাগুলির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এই গুরুতর সমস্যা মোকাবিলায় সরকার একটি সুদূরপ্রসারী এবং সময়বদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসে, যার উদ্দেশ্য ছিল এই মৌলিক চাহিদা পূরণ করে গ্রামীণ জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
এই মিশনের আওতায় কাজ হয়েছে দ্রুতগতিতে এবং অত্যন্ত কার্যকরভাবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট, ২০২৬ সাল নাগাদ, দেশের মোট ১৯ কোটি ৩৬ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারের মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি ৮৪ লক্ষ বাড়িতেই নলবাহিত জলের সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। এই সংখ্যা মোট গ্রামীণ পরিবারের ৮১.৮ শতাংশকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা প্রকল্পের অভূতপূর্ব সাফল্য এবং এর বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞাকে স্পষ্ট করে তোলে। এই দ্রুত অগ্রগতি গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি কোণে বিশুদ্ধ জলের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তুলেছে।
এই কর্মসূচির অধীনে 'পানীয় জলের সংযোগ' বলতে কেবল কোনো পানীয় জলের উৎসের সহজলভ্যতা বোঝানো হচ্ছে না, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলে। এর অর্থ হলো, কর্মসূচির অধীনে সরাসরি বাড়িতে নলবাহিত জলের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে পরিবারগুলি তাদের বাড়ির চৌকাঠেই নিরাপদ জল পায়। 'জল জীবন মিশন'-এর মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ পরিবারগুলিকে নিয়মিতভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ করা, যা তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং জল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়। এটি কেবল একটি মৌলিক চাহিদা পূরণ নয়, বরং গ্রামীণ সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যদিও এই কর্মসূচি ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছে এবং বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে, তবে এর বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পটি আরও আগে, সম্ভবত ২০২৪ সালের মধ্যে, শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু অঞ্চলে জলের উৎস খুঁজে বের করা, জলের গুণমান বজায় রাখা, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং পরিকাঠামোগত জটিলতার কারণে এর সময়সীমা ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত সময়সীমা নিশ্চিত করবে যে, দেশের প্রতিটি কোণে, এমনকি সবচেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও, নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার মহৎ লক্ষ্য পূরণ হবে এবং কোনো পরিবারই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না। এটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের প্রতিফলন।



