চীন এমন কিছু করছে যা কিছুদিন আগেও অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। ১৯৭৮ সাল থেকে "সবুজ মহাপ্রাচীর" (থ্রি-নর্থ শেল্টার ফরেস্ট প্রোগ্রাম) প্রকল্পের আওতায় ৬৬ বিলিয়ন গাছ লাগানো হয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে আরও ৩৪ বিলিয়ন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এটি কেবল গাছ লাগানো নয়। এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম পরিবেশগত কর্মসূচি। এর লক্ষ্য হলো গোবি ও তাকলা-মাকান মরুভূমির সম্প্রসারণ রোধ করা, উত্তর চীনের উর্বর জমি রক্ষা করা এবং শুষ্ক অঞ্চলে জীবন ফিরিয়ে আনা।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো: কৃত্রিম বন প্রাকৃতিক বনের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, সঠিক প্রজাতির গাছ নির্বাচন এবং আধুনিক রোপণ ও পরিচর্যা পদ্ধতির সমন্বয়ে একই অক্ষাংশের বন্য বনের তুলনায় বায়োমাসের বৃদ্ধি বেশি হচ্ছে।
ফলাফল এরই মধ্যে দৃশ্যমান:
- মরুভূমি হওয়ার হার কমছে।
- ক্ষুদ্র জলবায়ুর উন্নতি হচ্ছে।
- প্রাণীদের জন্য নতুন সবুজ করিডোর তৈরি হচ্ছে।
- ধূলিঝড়ের সংখ্যা কমেছে, যা আগে বেইজিং পর্যন্ত পৌঁছাতো।
কল্পনা করুন: যে লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমি কিছুদিন আগেও রুক্ষ মাটি ও বালি ছিল, আজ তা তরুণ বনে ঢাকা পড়েছে। গাছগুলো জীবন্ত ঢাল হিসেবে কাজ করছে — বালি ধরে রাখছে, আর্দ্রতা ধরে রাখছে এবং বাতাসকে ঠান্ডা করছে।
এটি রাতারাতি অর্জিত সাফল্য নয়। প্রকল্পটি প্রায় অর্ধ শতাব্দী পুরনো। তবে এর দীর্ঘমেয়াদী এবং পদ্ধতিগত দৃষ্টিভঙ্গিই "সবুজ মহাপ্রাচীরকে" একটি অসাধারণ উদাহরণে পরিণত করেছে, যা দেখায় যে মানুষ কেবল প্রকৃতি ধ্বংসই নয়, গ্রহব্যাপী এটি পুনরুদ্ধারও করতে পারে।
৬৬ বিলিয়ন গাছ এখন আর কেবল একটি সংখ্যা নয়। এটি মরুকরণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি নতুন রণক্ষেত্র। এবং এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে।



