রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনায় থাকা আন্তঃসীমান্ত সম্পদের পরিমাণের দিক থেকে হংকং প্রথমবারের মতো সুইজারল্যান্ডকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ আর্থিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মূলত মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং এশিয়া থেকে পুঁজির প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে এই পরিবর্তন এসেছে।
ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিত্তবান গ্রাহকদের কাছে সুইজারল্যান্ড কয়েক দশক ধরে গোপনীয়তা এবং স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। তবে বর্তমানে, বার্তা সংস্থাটির উল্লিখিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল বাজারগুলোর নৈকট্যের কারণে হংকং আগের চেয়ে অনেক বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিবর্তন এবং বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। হংকং নিজস্ব আইনি ব্যবস্থাসহ বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের মর্যাদা বজায় রেখেছে, যা পশ্চিমা বিনিয়োগকারী এবং চীনা অর্থনীতির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। একই সময়ে সুইজারল্যান্ড স্বচ্ছতা এবং কর সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বিষয়ক কঠোর আন্তর্জাতিক শর্তাবলির সম্মুখীন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক কেন্দ্রের এই ভরকেন্দ্র পরিবর্তন মূলত বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। বিনিয়োগকারীরা এখন প্রথাগত ইউরোপীয় কেন্দ্রগুলোর তুলনায় গতিশীল এশীয় অর্থনীতির সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত অঞ্চলগুলোকে বেশি পছন্দ করছেন। এটি অর্থের প্রবাহের চিরাচরিত পথ বদলে দিচ্ছে এবং ব্যাংক ও ফ্যামিলি অফিসগুলোর কৌশলকেও প্রভাবিত করছে।
রাশিয়া, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের গ্রাহকদের জন্য হংকং এখন সম্পদ রাখার ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক গন্তব্য হয়ে উঠেছে। চীনের সান্নিধ্য দেশটিকে চীনা মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে, আর ব্রিটিশ আইন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করছে।
রয়টার্স জোর দিয়ে বলেছে যে, চূড়ান্ত পরিসংখ্যানগুলো কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সামগ্রিক প্রবণতাটি বেশ স্থিতিশীল বলেই মনে হচ্ছে। হংকংয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে আন্তঃসীমান্ত মূলধন ব্যবস্থাপনা সেবার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা লক্ষ্য করছে।
বিনিয়োগকারীদের উভয় কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক পরিবেশের বিকাশের দিকে নিবিড় নজর রাখা উচিত এবং তাদের লক্ষ্য ও ঝুঁকি সহনশীলতার ভিত্তিতে বিনিয়োগের স্থান বহুমুখী করা উচিত।




