গত আগস্ট 2026 সালে বার্লিনে বিশেষ হলুদ খামের ঘাটতি দেখা দেয়, আর 9–10 সেপ্টেম্বর ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে। এমন কিছু খবর আছে, যা বাস্তবতার চেয়ে ভালোভাবে বানানো যায় না।
বার্লিনের প্রসিকিউটর অফিস এমন এক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল, যা আমলাতান্ত্রিক কমেডির একটি আলাদা পর্ব হওয়ার যোগ্য:
দণ্ডিত ব্যক্তি আছে।
রায় আছে।
কারাগার আছে।
কারাগারে জায়গাও আছে।
শুধু একটি জিনিস ছিল না।
খাম।
তাও সাধারণ নয়, বরং বিশেষ অফিসিয়াল চিঠিপত্রের জন্য হলুদ খাম। এই খামগুলোতেই আইনত গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ পাঠানো হয় — যার মধ্যে সাজা ভোগ শুরু করার জন্য কখন হাজির হতে হবে সেই তথ্যও থাকে।
আর ঠিক এই জায়গাতেই বিচার ব্যবস্থা সাময়িকভাবে থমকে গিয়ে বলল:
— আচ্ছা… খাম ছাড়া তো আমরা তাকে জেলে পাঠাতে পারছি না।
কথোপকথনটি কল্পনা করা যেতে পারে:
— রায় কি কার্যকর হয়েছে?
— হ্যাঁ।
— লোকটির কি জেলে যাওয়ার কথা?
— হ্যাঁ।
— জায়গা আছে?
— আছে।
— তাহলে সমস্যা কোথায়?
— দপ্তর।
খামের ঘাটতির কারণে দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় 1500টি চিঠি পাঠানো স্থগিত রাখতে হয়েছিল, আর সেগুলোর মধ্যে কারাদণ্ড শুরুর নোটিশও ছিল।
অর্থাৎ, কোথাও হয়তো কোনো লোক দিব্যি বাড়িতে বসে ভাবছিল:
«যাই হোক… রাষ্ট্র জানে আমি কোথায় আছি»।
আর রাষ্ট্র জানত।
রাষ্ট্র স্রেফ একটি খাম খুঁজছিল।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই সময়ে কারাগারের কিছু কক্ষ খালিই পড়ে ছিল।
কারাগার:
— আমরা প্রস্তুত।
প্রসিকিউটর অফিস:
— আমরাও।
দণ্ডিত ব্যক্তি:
— আমি মূলত বিষয়টি বুঝতে পেরেছি।
হলুদ খাম:
— কিন্তু আমি তো নেই।
এর কারণ কেবল স্টেশনারি সামগ্রীর সাধারণ অভাব ছিল না: সরকারি ডাক পাঠানোর ব্যবস্থাটি খামের নতুন ধরনে পরিবর্তিত হচ্ছিল, আর মজুত পর্যাপ্ত ছিল না।

পরে সরবরাহ শেষ পর্যন্ত এসেছিল এবং কাজ চলতে থাকে।
কিন্তু গল্পটি নিজেই চমৎকার।
কারণ আমরা ভাবতে অভ্যস্ত যে মানুষের স্বাধীনতা বিচারক, আইনজীবী এবং আইন দ্বারা নির্ধারিত হয়।
কিন্তু দেখা গেল যে, মাঝে মাঝে মানুষ এবং কারাগারের মাঝখানে শেষ রক্ষক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকে:
কয়েক সেন্ট মূল্যের একটি হলুদ খাম। 😄
আর যদি কখনো কেউ বলে:
«একজন মানুষ কিছুই নির্ধারণ করতে পারে না»,
তবে উত্তর দেওয়া যেতে পারে:
— সম্ভবত। কিন্তু একটি খাম — তা তো অবশ্যই পারে।




