২০২৬ সালের ১২ জুন মিউনিখের একটি জেলা আদালত এক প্রাথমিক রায় প্রদান করেছে, যেখানে সার্চ রেজাল্টে ব্যবহৃত ‘এআই ওভারভিউ’ ফিচারের মাধ্যমে তৈরি হওয়া ভুল তথ্যের জন্য গুগলকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। মিউনিখভিত্তিক দুটি প্রকাশনা সংস্থা—যাদের মধ্যে ‘দ্য ডিকোডার’ অন্যতম—এই মামলাটি দায়ের করে; কারণ জালিয়াতি এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের সাথে ভুলভাবে নাম জড়িয়ে যাওয়ার ফলে তাদের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
আদালত এআই ওভারভিউ-কে তৃতীয় পক্ষের কন্টেন্টের কোনো নিরপেক্ষ লিঙ্ক হিসেবে না দেখে বরং গুগলের নিজস্ব মৌলিক লেখা হিসেবে গণ্য করেছে। সাধারণ সার্চ রেজাল্টে যেখানে প্ল্যাটফর্মটি কেবল অন্যদের লেখা তালিকাভুক্ত করে দেখায়, সেখানে এই এআই-সারাংশ তথ্যের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নতুন টেক্সট তৈরি করে। এই মৌলিক পার্থক্যটিই সার্চ ইঞ্জিনগুলোর প্রচলিত আইনি সুরক্ষা বা ‘ইমিউনিটি’ বাতিলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
গুগল যুক্তি দিয়েছিল যে তারা ব্যবহারকারীদের তথ্য যাচাই করার জন্য সতর্কবার্তা দেয় এবং এই ফিচারটি সাধারণ সার্চের মতোই কাজ করে। আদালত এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে, যখন কোনো সিস্টেম বিদ্যমান তথ্যের সংকলন না করে বরং নিজে কন্টেন্ট তৈরি করে, তখন কেবল সতর্কবার্তা দিয়ে দায় এড়ানো সম্ভব নয়। কোম্পানিটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে এবং দাবি করছে যে এটি ওভারভিউ-এর কার্যপ্রণালীর ত্রুটি নয় বরং কিছু নির্দিষ্ট ভুল মাত্র।
এই রায়টি মূলত এআই-এর তথ্য তৈরির প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে: এআই কেবল সারসংক্ষেপ করে না, বরং নিজের ভাষায় তথ্য সাজিয়ে নতুন বক্তব্য তৈরি করে। মামলার বিবরণে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যেখানে মূল উৎসগুলোতে কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও ‘ওভারভিউ’ ফিচারটি প্রকাশকদের সাবস্ক্রিপশন জালিয়াতি এবং প্রতারণার সাথে জড়িত করেছিল। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, যেহেতু কেবল গুগলই তার অ্যালগরিদম ও ফলাফল সংশোধন করতে সক্ষম, তাই এর দায়ভারও তাদেরই নিতে হবে।
এই রায় ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী আইনি নজিরগুলোর থেকে আলাদা, যেখানে সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে মূলত নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হতো। বর্তমানে জেনারেটিভ ফিচারগুলো এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে তথ্যের সরাসরি প্রচারকের মর্যাদায় নিয়ে এসেছে। একই ধরনের যুক্তি ওপেনএআই-এর চ্যাটবট থেকে শুরু করে অ্যানথ্রোপিক-এর টুলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যেখানে ব্যবহারকারীরা তথ্য যাচাইয়ের সতর্কবার্তা সহ জেনারেটিভ উত্তর পেয়ে থাকেন।
এর ফলে এই খাতের আর্কিটেকচার এবং তথ্য প্রকাশ নীতি পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন দেখা দেবে। ডেভেলপারদের হয় রিয়েল-টাইম তথ্য যাচাই ও উৎস উদ্ধৃতির ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে, অথবা ভুল তথ্য বা ‘হ্যালুসিনেশন’-এর জন্য মামলার ঝুঁকি নিতে হবে। রায়টি প্রাথমিক হওয়ায় আপিলের সুযোগ থাকলেও এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে জেনারেটিভ এআই এখন আর কেবল একটি ‘সরঞ্জাম’ নয়, বরং একটি পণ্য হিসেবে বিবেচিত যার জন্য এর মালিক দায়ী।
তবে এই বিষয়টি কতটা বিস্তৃত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়: এই নজির অন্যান্য বিচারব্যবস্থা এবং করপোরেট চ্যাটবট বা অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো বিভিন্ন ধরনের এআই অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে কি না। আইনি ক্ষেত্রে ‘সার্চ’ এবং ‘জেনারেশন’-এর মধ্যেকার পার্থক্য কতটা স্থায়ী হয়, তা ভবিষ্যতে স্বাধীন যাচাই এবং পরবর্তী মামলাগুলোর মাধ্যমে বোঝা যাবে।
মিউনিখ আদালতের এই সিদ্ধান্তটি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে যে, নতুন কোনো লিখিত বক্তব্য তৈরির ক্ষেত্রে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তার দায় অ্যালগরিদম বা ব্যবহারকারীর ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না।



