সৌরঝড় বদলে দিচ্ছে আবহাওয়া: নতুন গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে এর নেপথ্য প্রক্রিয়া

সম্পাদনা করেছেন: Alex Khohlov

সৌরঝড় বদলে দিচ্ছে আবহাওয়া: নতুন গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে এর নেপথ্য প্রক্রিয়া-1

সৌরঝড়—সূর্যের সক্রিয়তার সাময়িক এই বৃদ্ধি—সূর্যের দীর্ঘমেয়াদী সক্রিয়তা চক্রের তুলনায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অনেক দ্রুত প্রভাব ফেলে। 'জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স' (Geophysical Research Letters) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় মাত্র কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যেই উত্তর আমেরিকার তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত 'ইওস' (Eos) নিবন্ধে এই ফলাফলগুলো বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞানী ইওয়াখিম র্যাডার (Joachim Raeder) ভূ-চৌম্বকীয় গোলযোগের তীব্রতা এবং বায়ুমণ্ডলের অবস্থা সম্পর্কিত দীর্ঘ ৬৭ বছরের প্রতি ঘণ্টার তথ্য নিয়ে এক বিশাল বিশ্লেষণ পরিচালনা করেন। জলবায়ুর সংখ্যাসূচক মডেলিংয়ের অগ্রগতির কারণেই সম্প্রতি বায়ুমণ্ডলীয় পর্যবেক্ষণের এমন নির্ভুল ও বিশাল ভাণ্ডার ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। গবেষণার ফলাফল অত্যন্ত জোরালো: ঝড় যত শক্তিশালী হয়, ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি স্তরে এর প্রভাব তত বেশি স্পষ্ট ও স্থানীয়ভাবে অনুভূত হয়। শীতকালে আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে তাপমাত্রা বাড়লেও দেশের বাকি অংশে তা হ্রাস পায়। এই প্রভাবগুলো মোটেও বিশৃঙ্খল নয়—এগুলো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা যেমন রকি পর্বতমালার পূর্ব ঢাল, আটলান্টিক উপকূল এবং হাডসন উপসাগর অনুসরণ করে। এই ধরনের পূর্বাভাসযোগ্যতা নির্দিষ্ট অঞ্চলের আবহাওয়ার আরও সঠিক আগাম বার্তার পথ প্রশস্ত করছে।

এই গবেষণাটি প্রথমবারের মতো আবহাওয়ার ওপর স্বল্পমেয়াদী ভূ-চৌম্বকীয় গোলযোগের সরাসরি প্রভাবের প্রমাণ উপস্থাপন করে—এই প্রক্রিয়াটি সূর্যের সুপরিচিত ১১ বছরের চক্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে কাজ করে। আগে বিজ্ঞানীরা জলবায়ুর ওপর সূর্যের প্রভাব নিয়ে দুটি মূল ধারণা পোষণ করতেন: হয় ১১ বছরের চক্রের মধ্যে ধীর পরিবর্তন, অথবা মহাজাগতিক রশ্মির ধারণা যা মেঘের গঠন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে বলে মনে করা হতো।

র্যাডারের নতুন তথ্য মহাজাগতিক রশ্মির সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে, কিন্তু "টপ-ডাউন" (উপর থেকে নিচে) নামক একটি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেছে: গোলযোগগুলো বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে শুরু হয় এবং নিচের দিকে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ও পরে ট্রপোস্ফিয়ারে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আমাদের দৈনন্দিন আবহাওয়া তৈরি হয়।

লেখক পুরনো পর্যবেক্ষণগুলোর একটি নতুন ব্যাখ্যা প্রস্তাব করেছেন: সৌর সক্রিয়তা এবং পৃথিবীর আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী যে সম্পর্ক বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক ধরে লক্ষ্য করছেন, তা সৌর চক্রের ধীর পরিবর্তনের কারণে নয় বরং শক্তিশালী স্বল্পস্থায়ী সক্রিয়তার কারণেই হতে পারে। এটি পৃথিবীর আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণে সূর্যের ভূমিকা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা আমূল বদলে দিচ্ছে—এই প্রভাব কেবল শতাব্দী বা দশকের হিসেবে নয়, বরং নির্দিষ্ট দিন ও সপ্তাহের ভিত্তিতেও দৃশ্যমান, যা আগে থেকেই জানানো সম্ভব।

এর ব্যবহারিক প্রয়োগ এখনই শুরু করা সম্ভব। বর্তমানে আবহাওয়া ও জলবায়ুর যেসব আধুনিক মডেল ব্যবহৃত হয়, সেগুলোতে ভূ-চৌম্বকীয় গোলযোগের প্রভাব খুব সামান্য বা একেবারেই বিবেচনা করা হয় না। এই প্রভাবগুলোকে মডেলে অন্তর্ভুক্ত করলে পূর্বাভাসের নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষ করে সেইসব অঞ্চলে যেগুলো চৌম্বকীয় ঝড়ের প্রতি সংবেদনশীল। এই গবেষণাটি সম্পূর্ণ বাস্তব পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং বিদ্যমান তথ্যের বাইরে কোনো কাল্পনিক অনুমানের প্রয়োজন নেই—অর্থাৎ এর ফলাফলগুলো এখনই প্রয়োগ করা সম্ভব।

সুতরাং, এমনকি স্বল্পকালীন সৌরঝড়ও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে গভীর ছাপ রেখে যায়। জলবায়ু মডেলগুলোর উন্নতি ঘটাতে এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের নির্ভুলতা বাড়াতে আজ থেকেই এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Solar Storms Can Affect Earth’s Weather. A New Study Examines How

  • Testing the proposed causal link between cosmic rays and cloud cover

  • Regional and Seasonal Effects of Geomagnetic Storms on Terrestrial Weather - Raeder - 2026 - Geophysical Research Letters

  • Solar impacts on decadal variability of tropopause temperature and lower stratospheric water vapour

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।