মঙ্গলের নিকটে সৌর বায়ুতে চৌম্বকীয় পুনঃসংযোগের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ সৌর গতিবিদ্যার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S

সূর্য ও মঙ্গলের মধ্যবর্তী মহাশূন্যে অদৃশ্য চৌম্বক সুতোগুলো হঠাৎ ছিঁড়ে গিয়ে নতুনভাবে বিন্যস্ত হয় এবং প্রতি সেকেন্ডে কয়েক শ কিলোমিটার বেগে প্লাজমা নির্গত করে। মেভেন (MAVEN) মহাকাশযানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সরাসরি এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

চৌম্বকীয় পুনঃসংযোগ এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে বিপরীতমুখী চৌম্বক বলরেখাগুলো একে অপরের সাথে মিলে পুনরায় বিন্যস্ত হয় এবং জমানো শক্তি বিচ্ছুরণ করে। সৌর বায়ুতে পাতলা বিদ্যুৎ প্রবাহের স্তর থাকে যেখানে এই প্রক্রিয়াটি সবখানেই ঘটে, তবে মঙ্গলের কক্ষপথে এর স্বপক্ষে কোনো সরাসরি প্রমাণ এতদিন ছিল না।

বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও তাঁদের সহকর্মীরা মেভেনের ম্যাগনেটোমিটার, এসডব্লিউআইএ (SWIA) আয়ন অ্যানালাইজার এবং এসডব্লিউইএ (SWEA) ইলেকট্রন অ্যানালাইজার থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে পেটচেক (Petschek) মডেল অনুযায়ী পুনঃসংযোগের ধ্রুপদী লক্ষণগুলো যেমন—চৌম্বক ক্ষেত্রের বিভাজন এবং অ্যালভেনিক প্লাজমা নির্গমন শনাক্ত করেছেন।

পর্যবেক্ষণকৃত এই নির্গমন অঞ্চলগুলো ছিল বেশ বিশাল এবং মঙ্গলের কাছে সৌর বায়ুর সাধারণ বিদ্যুৎ প্রবাহ স্তরের চেয়ে অনেক বেশি পুরু। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, পুনঃসংযোগ কেবল স্তরের ভেতরেই ঘটে না, বরং সক্রিয়ভাবে স্তরটিকে প্রসারিত করে সৌর বায়ুর বিবর্তন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

এই ঘটনাগুলো শুধুমাত্র বড় কোনো হেলিওস্ফিয়ারিক বিদ্যুৎ প্রবাহ স্তরে নয়, বরং বিচ্ছিন্ন কিছু বিদ্যুৎ প্রবাহ স্তরেও পরিলক্ষিত হয়েছে, যা সূর্য থেকে বিভিন্ন দূরত্বে এই প্রক্রিয়ার সর্বজনীনতাকেই প্রমাণ করে।

মঙ্গলের নিজস্ব কোনো বিশ্বজনীন চৌম্বক ক্ষেত্র নেই এবং এর কেবল একটি আবিষ্ট ম্যাগনেটোস্ফিয়ার রয়েছে, যার ফলে এই পর্যবেক্ষণগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। আগে ধারণা করা হতো গ্রহটির কাছের অধিকাংশ বিদ্যুৎ প্রবাহ স্তর পুনরায় বিন্যস্ত হয় না; তবে এখন এটি পরিষ্কার যে এই পুনঃসংযোগ প্রক্রিয়াটি মঙ্গলের আবিষ্ট ম্যাগনেটোস্ফিয়ার গঠন এবং বায়ুমণ্ডলে সৌর বায়ুর শক্তি সঞ্চারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিষয়টি একটি পুরনো বাগানের উদাহরণ দিয়ে বোঝা সহজ: কল্পনা করুন গাছের ডালপালা হঠাৎ ভেঙে পরস্পরের সাথে জড়িয়ে গেলে কাণ্ডে জমে থাকা সুপ্ত শক্তি থেকে পাতা ও বাতাসের মধ্যে যে গতির সৃষ্টি হয়, এটিও অনেকটা সেরকম।

এই গবেষণাটি এমএসও (MSO) স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা এবং ন্যূনতম বিচ্যুতি পদ্ধতিতে তৈরি এলএমএন (LMN) সিস্টেমের অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিমাপের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। প্রাপ্ত সংকেতগুলো পেটচেক-টাইপ পুনঃসংযোগের সাথে মিলে যায় এবং পৃথিবী বা সূর্যের কাছের আগের পর্যবেক্ষণের সাথেও সংগতিপূর্ণ। একই সাথে এই নির্গমনের বিশালতা থেকে ধারণা করা যায় যে, এই প্রক্রিয়াটি সমগ্র হেলিওস্ফিয়ার জুড়েই বিশৃঙ্খলা বা টার্বুলেন্স সৃষ্টি করতে সক্ষম।

সুতরাং, চৌম্বকীয় পুনঃসংযোগ কোনো বিরল ঘটনা নয়, বরং এটি সৌর গতিবিদ্যার একটি মৌলিক নিয়ন্ত্রক যা সূর্যের করোনা থেকে শুরু করে সৌরজগতের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।

9 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Direct Observations of Magnetic Reconnection in the Solar Atmosphere

  • Direct Observations of Magnetic Reconnection in the Solar Wind Current Sheets near Mars

  • Relativistic Petschek reconnection with pressure anisotropy in a pair-plasma

  • MAVEN spacecraft instruments specifications

  • Mars and magnetosphere history

  • Mars atmosphere and induced magnetosphere

  • MAVEN (Mars Scout 2) - Gunter's Space Page

  • Recent progress in understanding magnetic reconnection in the Martian space environment

  • Magnetic Reconnection as a Potential Trigger for Magnetotail Flapping at Mars

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।