২০২৬ সালের আগস্ট মাসে, লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষকরা এমন কিছু ফলাফল উপস্থাপন করেছেন যা ক্ষতিগ্রস্ত হাড় পুনর্গঠনের পদ্ধতিকে পরিবর্তন করতে পারে। আল আরাবিয়া ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেড়ার লোম থেকে নিষ্কাশিত কেরাটিন প্রাণীদের উপর চালানো পরীক্ষায় নতুন হাড়ের টিস্যু গঠনে সহায়তা করার ক্ষমতা দেখিয়েছে।
আল আরাবিয়ার নিবন্ধটি 'সায়েন্স ডেইলি'-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেছে যে, কেরাটিন-ভিত্তিক উপাদান প্রচলিত কোলাজেন মেমব্রেনগুলির চেয়ে গঠিত হাড়ের গুণগত মানে উৎকৃষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। যদিও কোলাজেন বেশি পরিমাণে নতুন টিস্যু তৈরিতে উদ্দীপনা যোগায়, তবে কেরাটিনের মেমব্রেনগুলি প্রাকৃতিক হাড়ের কাছাকাছি আরও সুবিন্যস্ত কাঠামো প্রদান করে।
গবেষকরা প্রথমে ল্যাবরেটরি পরিবেশে মানব হাড়ের কোষ দিয়ে কেরাটিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন। কোষগুলি সফলভাবে উপাদানের সাথে সংযুক্ত হয় এবং বৃদ্ধি পায়, যা স্বাভাবিক হাড় গঠনের লক্ষণ দেখায়। এরপর রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত মেমব্রেন আকারে এই উপাদানটি ইঁদুরের মাথার খুলির বড় ধরনের ত্রুটিযুক্ত হাড়ে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা সাধারণত নিজে নিজে ঠিক হয় না।
প্রতিস্থাপনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, কেরাটিন মেমব্রেনগুলি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে নতুন হাড়ের বৃদ্ধিকে নির্দেশিত করে। উৎস অনুযায়ী, প্রাপ্ত টিস্যু কোলাজেন ব্যবহারের ফলাফলের তুলনায় আরও বেশি কাঠামোগত সুবিন্যস্ততা এবং দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে। লন্ডনের কিংস কলেজের ব্যাচেলর অফ মেডিসিন শেরিফ এলশারকাউই উল্লেখ করেছেন যে, এটি জীবন্ত প্রাণীর দেহে হাড় পুনর্গঠনের জন্য লোম-ভিত্তিক উপাদানের প্রথম সফল পরীক্ষা।
আল আরাবিয়া এর ব্যবহারিক দিকের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে: ভেড়ার লোম একটি নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ, যা প্রায়শই কৃষি বর্জ্য হিসাবে বিবেচিত হয়। কেরাটিনের ব্যবহার কোলাজেনের উপর নির্ভরতা কমাতে পারে, যা 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে বিবেচিত হলেও এর শক্তি এবং পচনশীলতার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই ফলাফলগুলি রিজেনারেটিভ মেডিসিন এবং ডেন্টিস্ট্রিতে নতুন বায়োম্যাটেরিয়াল তৈরির সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। কেরাটিন-ভিত্তিক উপাদানটিকে একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কোলাজেনের সাথে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
প্রাথমিক তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, ভেড়ার লোমের কেরাটিন হাড়ের টিস্যু পুনর্গঠনে টেকসই সমাধানের ভিত্তি হতে পারে।
