ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার গভীর গ্রীষ্মমন্ডলীয় বনাঞ্চলে বিজ্ঞানীরা একটি আকর্ষণীয় আবিষ্কার করেছেন: তারা Allographa গণের পাঁচটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির লাইকেন খুঁজে পেয়েছেন। বাইরে থেকে, এই জীবগুলি গাছের ছালের উপর খোদাই করা মার্জিত কালো হায়ারোগ্লিফের মতো দেখতে লাগে।
লাইকেন হল ছত্রাক এবং শৈবালের একটি অনন্য মিলন। তারা বাতাসের বিশুদ্ধতা এবং মাইক্রোক্লাইমেটের প্রতি অবিশ্বাস্যভাবে সংবেদনশীল, তাই তারা প্রাকৃতিক "জীবন্ত সেন্সর" হিসাবে কাজ করে। যদি বনের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস বা দূষিত হতে শুরু করে, তবে এই লাইকেনগুলি সবার আগে অদৃশ্য হয়ে যায়, গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই মানুষকে বিপদের বিষয়ে সতর্ক করে।
আঘারকার গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা ব্যাপক অভিযান চালিয়েছেন এবং আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। তারা কেবল আবিষ্কৃত জিনিসগুলির বাহ্যিক চেহারা এবং রাসায়নিক গঠনই অধ্যয়ন করেননি, বরং তাদের ডিএনএ-ও ডিকোড করেছেন। দেখা গেছে যে প্রকৃতি ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে: একই রকম দেখতে লাইকেনগুলি জেনেটিক স্তরে দূরবর্তী আত্মীয় হতে পারে।
জীববিজ্ঞানীরা মোট পাঁচটি নতুন প্রজাতির বর্ণনা দিয়েছেন (কেরালা রাজ্য, একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং নির্দিষ্ট রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের নামে নামকরণ করেছেন), এবং পূর্ব-বিদ্যমান পরিচিত প্রজাতির ডেটাও স্পষ্ট করেছেন। তাদের গবেষণার ফলাফল Mycological Progress বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এই আবিষ্কারটি কেবল প্রজাতির তালিকা বৃদ্ধির চেয়েও বেশি কিছু। এটি দেখায় যে ক্লাসিক্যাল বোটানির সাথে জেনেটিক্সকে একত্রিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমঘাট গ্রহের জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত হয় এবং এখনও সেখানে অসংখ্য অগণিত জীব রয়েছে। এখন বিজ্ঞানীদের কাছে এই লাইকেনগুলির একটি সুনির্দিষ্ট আণবিক "মানচিত্র" রয়েছে। এটি বনের দুর্বল অঞ্চলগুলি আরও নির্ভুলভাবে সনাক্ত করতে এবং কেবল ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়ে বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে সহায়তা করবে।
