বোর্নিওর রেইনফরেস্টে থাকা ডিপ্টেরোকার্প গোত্রের প্রায় সত্তর মিটার উঁচু বিশাল গাছগুলো আশাতীতভাবে তাদের তুলনায় খাটো প্রতিবেশীদের চেয়ে খরায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। ২০২৬ সালের ২ জুলাই 'সায়েন্স' সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা এই দীর্ঘকালীন ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে যে, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং দীর্ঘ পানি বহনকারী নালীগুলো এই দৈত্যাকার গাছগুলোর উপরিভাগকে খরা মৌসুমে অতিমাত্রায় নাজুক করে তোলে।
ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের গবেষক দল এবং মালয়েশিয়ার অংশীদাররা পেশাদার পর্বতারোহীদের সহায়তায় কাবিলি-সেপিলক অভয়ারণ্যের পাঁচ প্রজাতির ডিপ্টেরোকার্প গাছের মগডালে আরোহণ করেন। তারা সাত থেকে একাত্তর মিটার উচ্চতার মোট ৩৮টি গাছের পাতা, ডালপালা এবং কাণ্ডের নমুনা সংগ্রহ করেন। সেখানে পানি পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় পঁচিশটি ভিন্ন ভিন্ন দিক পরিমাপ করা হয়।
দেখা গেছে যে, সবচেয়ে লম্বা গাছগুলোর কাণ্ডের গোড়ার দিকের জাইলেম বা পানি পরিবাহী কলা তুলনামূলক প্রশস্ত, যা উপরের দিকে পানি ওঠার দীর্ঘ পথে তৈরি হওয়া বাধা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, গাছের একদম উপরের অংশের পাতাগুলো পানির পরিমাণ কমে গেলেও কোষের টানটান অবস্থা বা টারগর প্রেশার হারানো ছাড়াই টিকে থাকতে সক্ষম। ২০২৩-২৪ সালের তীব্র খরা চলাকালীন পর্যবেক্ষণ করা হয় যে, লম্বা এবং খাটো উভয় গাছের বৃদ্ধির হার উচ্চতার ওপর নির্ভর করেনি, যা প্রমাণ করে যে খরার প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল নয়।
মাটির আর্দ্রতা ফুরিয়ে এলেও এই বিশেষ অভিযোজনগুলোর কারণেই দানবীয় গাছগুলো পানির সরবরাহ বজায় রাখতে পারে। এই বিশাল গাছগুলো তাদের দেহে প্রচুর পরিমাণে কার্বন জমা করে রাখে এবং বীজ ও আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে অসংখ্য ক্রান্তীয় জীবের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করে। ডিপ্টেরোকার্প গোত্রের উদ্ভিদগুলো যদি সত্যিই খরা সহনশীল হয়, তবে আগামী কয়েক দশক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এগুলো কার্বনের এক নির্ভরযোগ্য ‘ভাণ্ডার’ হিসেবে কাজ করবে।
গবেষণাটি স্পষ্ট করে তুলেছে যে, গাছগুলো কেবল নিষ্ক্রিয় সত্তা নয়, বরং প্রতিকূল পরিবেশের সাথে পাল্লা দিয়ে তারা সক্রিয়ভাবে নিজেদের শারীরিক গঠন পরিবর্তন করে। এই ধরনের আবিষ্কারগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে কোন বনগুলো টিকে থাকবে এবং কোথায় সংরক্ষণের প্রচেষ্টা চালানো উচিত, তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে।
এই জীবনধারণ প্রক্রিয়ার গভীর উপলব্ধি আমাদের এক বাস্তবসম্মত হাতিয়ার তুলে দেয়: বন পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনায় এই ধরনের অভিযোজন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রজাতিগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যৎ খরা থেকে পুরো বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলা সম্ভব।


