পূর্ব হিমালয়ের উচ্চভূমিতে, যেখানে জলের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের সামান্য উপরে থাকে এবং পাতলা বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ মানুষের জন্যও প্রায় অপর্যাপ্ত, সেখানে প্রকৃতি অপ্রত্যাশিতভাবে এক বিস্ময় উপহার দিল: তিব্বতীয় মালভূমি এবং চীনের বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত একটি মাছের অস্তিত্ব এখন পাহাড়ের ভারতীয় অংশেও পাওয়া গেছে।
আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব কোল্ডওয়াটার ফিশারিজ রিসার্চ-এর বিজ্ঞানীরা অরুণাচল প্রদেশের মৎস্য বিভাগ এবং শার-সো কমিটির সাথে যৌথভাবে তাওয়াং জেলায় প্রায় 3900 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক হ্রদে প্রথমবারের মতো শিজোপিগোপসিস ওয়াডেলিয়াই নথিভুক্ত করেছেন। এর আগে এই প্রজাতিটি শুধুমাত্র তিব্বতীয় মালভূমি এবং চীনে প্রাপ্তির জন্য পরিচিত ছিল, তাই ভারতের এই নথিভুক্তি এর বিচরণক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে।
উচ্চভূমির হ্রদগুলো হলো নিম্ন তাপমাত্রা, স্বল্প পুষ্টি এবং চরম প্রতিকূল পরিবেশের এক বিচ্ছিন্ন জগত। এমন স্থানে কেবল সেই প্রজাতিগুলোই টিকে থাকে যারা ঠান্ডা এবং পাতলা পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম। এখানে শিজোপিগোপসিস ওয়াডেলিয়াইয়ের উপস্থিতি নির্দেশ করে যে, পূর্ব হিমালয়ে আগের ধারণার চেয়েও বেশি এমন ‘অভিবাসী’ প্রজাতি লুকিয়ে থাকতে পারে।
বৈজ্ঞানিক দক্ষতা, স্থানীয় জ্ঞান এবং দুর্গম এলাকায় মাঠপর্যায়ের কাজের সমন্বয়ে এই আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে। গবেষকদের সাথে সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় কমিটির এই সহযোগিতা প্রমাণ করেছে যে, প্রত্যন্ত পার্বত্য জলাশয়গুলোর জীববৈচিত্র্য নথিভুক্ত করতে যৌথ প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর হতে পারে।
এই ধরনের আবিষ্কার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, গিরিপথগুলোর ওপারের জীবন সম্পর্কে আমরা কত কম জানি: একটি হ্রদ, একটি অভিযান—আর তাতেই প্রজাতির বিস্তারের মানচিত্র বদলে যায়। পরবর্তী শ্রেণিবিন্যাসগত, পরিবেশগত এবং জেনেটিক গবেষণাগুলো এই মাছের পপুলেশন কতটা স্থিতিশীল এবং তাদের জন্য কী ধরনের পরিবেশ প্রয়োজন তা বুঝতে সাহায্য করবে।
উচ্চভূমির জলাশয়গুলোর পদ্ধতিগত জরিপ কেবল প্রাণিকুলের তালিকা সমৃদ্ধ করতেই সাহায্য করে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তন বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এই ভঙ্গুর ভারসাম্য নষ্ট করার আগেই সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় এলাকাগুলো চিহ্নিত করতেও সহায়তা করে।

