2026 সালের আগস্টের শেষে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্য একটি জাতীয় কর্মসূচি প্রতিষ্ঠার ডিক্রি জারি করেন। প্রথম নজরে, এটি উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতায় আরেকটি পদক্ষেপ, কিন্তু এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর খেলা: অস্থায়ী তেলের সম্পদকে জ্ঞান ও শিল্পের টেকসই মূলধনে রূপান্তর করা।
কর্মসূচিটি শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রতিভা বিকাশকে সরাসরি কৌশলগত শিল্পের সাথে সংযুক্ত করে। উচ্চ কমিটির নেতৃত্বে আছেন শেখ মনসুর বিন জায়েদ, এবং তার ডেপুটি হয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ। প্রথম পর্যায়ে ছয়টি ক্ষেত্র রয়েছে: কারিগরি শিক্ষা ও জাতীয় কর্মী, জাতীয় সেবা, ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, বিশ্ব প্রতিভা আকর্ষণ, এবং প্রযুক্তিগত গবেষণা ও উদ্ভাবন। লক্ষ্য শুধু শেখানো নয়, বরং এমন বিশেষজ্ঞ তৈরি করা যারা রপ্তানিযোগ্য প্রযুক্তি তৈরি করতে এবং দেশের শিল্প সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করতে সক্ষম।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতির জন্য, এটি বৈচিত্র্যের উপর একটি ক্লাসিক বাজি। তেল দ্রুত আয় দেয়, কিন্তু এটি সসীম এবং দামের ওঠানামার সাপেক্ষে। এখন বিজ্ঞান ও কর্মীদের মধ্যে বিনিয়োগ করে, আমিরাত সম্পদের নতুন উৎসের ভিত্তি স্থাপন করছে — উন্নত উৎপাদন থেকে উচ্চ-প্রযুক্তি সমাধান রপ্তানি পর্যন্ত। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, একজন বিচক্ষণ বিনিয়োগকারী কীভাবে তার পোর্টফোলিওর কিছু অংশ কাঁচামাল সম্পদ থেকে ক্রমবর্ধমান কোম্পানির শেয়ারে স্থানান্তর করে: ঝুঁকি বেশি, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী রিটার্নের সম্ভাবনা তুলনাহীনভাবে বেশি।
এখানে স্বার্থ স্পষ্ট। রাষ্ট্র একই সাথে বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতা হিসেবে কাজ করে: এটি বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণের অর্থায়ন করে এবং একই সাথে অগ্রাধিকার খাতে তাদের দক্ষতার চাহিদা তৈরি করে। তরুণ আমিরাতিদের জন্য উচ্চ রিটার্ন সহ বাস্তব ক্যারিয়ারের পথ খুলে যায় — শুধু কাজ নয়, জাতীয় মূলধন তৈরিতে অংশগ্রহণ। মনস্তাত্ত্বিকভাবে, এটি অর্থের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে: সম্পদকে আর মাটির নিচের উত্তরাধিকার হিসেবে দেখা হয় না, বরং নিজের প্রচেষ্টা এবং দূরদর্শিতার ফল হিসেবে দেখা হয়।
ব্যক্তিগত অর্থের সাথে তুলনা করুন। যে ব্যক্তি তার সমস্ত আয় বর্তমান খরচে ব্যয় করে, সে বৃদ্ধ বয়সে সঞ্চয় ছাড়া থাকার ঝুঁকিতে থাকে। যে দেশ মানব মূলধন এবং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে না, সে প্রজন্মের স্কেলে একই সমস্যার মুখোমুখি হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত বিপরীত পথ বেছে নেয়: বর্তমান তেল উদ্বৃত্ত ভবিষ্যতের সমৃদ্ধির 'বীজ' বপনের জন্য নির্দেশিত হয়। পুরনো আরব প্রবাদ বলে, 'যে আজ বপন করে, সে আগামীকাল ফসল কাটে' — এখানে এটি রূপক নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কৌশল।
ফলাফল অবিলম্বে দেখা যাবে না, তবে ইতিমধ্যে কর্মসূচিটি বাজার এবং বিনিয়োগকারীদের সংকেত দিচ্ছে: সংযুক্ত আরব আমিরাত শুধু তেল দিয়ে নয়, মেধা এবং প্রযুক্তি দিয়েও প্রতিযোগিতা করতে প্রস্তুত। বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকের জন্য এটি একটি পাঠ: এমনকি সম্পদ-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রেও, দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ অভিযোজন এবং নতুন কিছু তৈরি করার ক্ষমতার উপর নির্মিত। প্রশ্ন হল, সুযোগের জানালা এখনও খোলা থাকতে অন্যান্য দেশ কি একই রকম বাজি ধরতে পারবে।

